অজ্ঞাত রোগে মরছে মুরগি, আতঙ্কিত দেশের খামারিরা

Poultry farm

দেশের মুরগির খামারিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এক নতুন আতঙ্ক। প্রায় আট মাস ধরে অজ্ঞাত এক রোগে দেশের কোনো না কোনো খামারে মরে যাচ্ছে সব মুরগি। বেঁচে গেলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ওজন বাড়ছে না। লোকসানের ভয়ে কম ওজনের মুরগিই বিক্রি করে দিচ্ছেন খামারিরা। আর মুনাফা যেন আকাশকুসুম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত শনাক্ত করতে না পারলে বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা জানান খাত সংশ্লিষ্টরা। এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহায়তা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক।

গত মাসে ৮ হাজার মুরগি মারা গেছে-২৮ বছরের ব্যবসায় এত বড় ধাক্কা আগে পাননি রূপগঞ্জের সফিকুল ইসলাম। খামার করেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন তাই আবার বিনিয়োগ করেছেন তিনি। আর অজানা রোগের তাণ্ডবে পুঁজি হারিয়ে এখন অন্যের খামারের চাকরি করেন ময়মনসিংহের আবদুল মান্নান নামে এক খামারি।

মুরগির খামারে এখন অজ্ঞাত এক রোগ ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। এক থেকে ৪৫ দিন বয়সী মুরগির মধ্যে দেখা দেয়া রোগটি গত ৮ মাসে বহু খামার উজাড় করেছে। আক্রান্ত মুরগি বেঁচে থাকলেও পূর্ণাঙ্গ বয়সে প্রত্যাশার চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজন কম হয় বলে জানান খামারি সেলিম ও শাহাদাত নামের দুই ব্যক্তি।

মহামারি আকারে না হলেও এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে। পোল্ট্রি শিল্প রক্ষায় দ্রুত এ রোগ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এ খাত সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, খুবই খারাপ অবস্থা ছিল ফেব্রুয়ারি-মার্চে, এটার প্রকোপটা একটু কমে এসেছে। ভাইরাসের কাজই ছড়ানো। এটা কী ধরনের ভাইরাস সেটি শনাক্ত করে সেটার জন্য যে ভ্যাকসিনটা দরকার, সেটা বিদেশ থেকে আনার চেষ্টা করতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও আফতাব বহুমুখী ফার্মের পোল্ট্রি কনসালটেন্ট ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, যে খামারটা অ্যাটাক করছে সেখানে দেখা গেছে সেখানে শতভাগ মুরগি মারা গেছে। আমাদের দেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা আছে তাদেরকে যদি বলা হয় যে খামারে এ সমস্যা হচ্ছে, তখন তারা এটি পরীক্ষা করে দেবে। এর আগেও বার্ড ফ্লুর সময় তারা পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করেদিয়েছিল।

এ রোগে আক্রান্ত মুরগির হাত-পা, বুক শুকিয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়, লিভার ফুলে যায়, অন্ত্রে ঘা হয়। প্রচলিত কোনো ওষুধে এর উপশম হয় না।

সহজে প্রোটিনের যোগান দেয়া এসব মাখারে মাঝে মাঝেই দেখা যায় অজ্ঞাত রোগবালাই। যাতে অনেক খামারিই নিঃস্ব হয়ে যায় আবার কেউ কেউ দুই এক ধাক্কায় পার পেলেও দীর্ঘদিন টিকে থাকা সম্ভব হয় না খামার ব্যবসায়। তাই দ্রুততম সময়ে রোগ শনাক্তে সরকারকে আরও উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।