এক ম্যাচ খেলেই ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয়!

একজন খেলোয়াড়ের পেছনে এতো এতো টাকা খরচা করা, তা নিয়ে কত কথা, কত হইচই! সম্প্রতি বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে কিনে নিয়েছে পিএসজি। এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তবে এদিকে বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদারের আয়ের অঙ্কটা শুনলে নিশ্চই অবাক হবেন আপনি।

পিএসজিতে নেইমার বছরে বেতন পাবেন ৪৫ মিলিয়ন ইউরো। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বক্সার মেওয়েদার এক লড়াইয়েই জিতে নিলেন ৩০০ মিলিয়ন ডলার! গণমাধ্যমে খবর ক্যারিয়ারের শেষ এই লড়াই থেকে মেওয়েদারের আয়ের অঙ্কটা ৪০০ মিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে!

আজ রোববার সকালে (বাংলাদেশ সময়) যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে হয়ে গেল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বক্সিং লড়াই। যে লড়াইয়ে আইরিশ মিক্সড মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় কনর ম্যাকগ্রেগরকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের ৫০তম লড়াইটাও জিতে নিলেন মেওয়েদার। এই জয়ে তার ক্যারিয়ার রেকর্ডটা হলো ৫০-০। মানে পেশাদার বক্সিংয়ে ৫০টি লড়াইয়ে নেমে প্রতিটিতেই জয়! হার বা ড্র নেই।

বক্সিং রিংয়ে ৪০ বছর বয়সী মেওয়েদার অপ্রতিরোধ্য, এটা সবারই জানা। ক্যারিয়ারের শেষ লড়াইয়েও তিনিই জিতবেন সেটাও প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু বয়স হয়ে গেছে ৪০। তা ছাড়া অবসর নেওয়ায় গত দুই বছরে অনুশীলনও সেভাবে করেননি। দুইয়ে মিলে জয়ের একটা আশা হয়তো জেগেছিল ম্যাকগ্রেগরের মনে। কিন্তু রিংয়ে নেমে মেওয়েদার প্রমাণ করে দিলেন, তাকে হারানোর মতো বক্সার এই দুনিয়ায় নেই! ম্যাচের দুই রাউন্ড বাকি থাকতেই টেকনিক্যালি নকআউট করে দিয়েছেন ম্যাকগ্রেগরকে।

হাল ছেড়ে না দিয়ে আইরিশ মিক্সড মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় অবশ্য লড়াইটা চালিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু দশম রাউন্ড শেষে তার করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে রেফারি লড়াইটা শেষ করে দিতে বাধ্য হন! জয়ের পরই চ্যাম্পিয়ন বেল্টটা শরীরে জড়িয়ে মেওয়েদার অবসরের ঘোষণা দেন তৃতীয় বারের মতো।

এর আগেও দুবার অবসর নিয়েছেন মেওয়েদার। সর্বশেষ অবসর নিয়েছিলেন ২০১৫ সালের মেতে ৪৯তম লড়াইয়ে জয়ের পর। কিন্তু অবসর নিলেও মনের কোণে একটা খচখচানি অনুভব করেন চ্যাম্পিয়ন বক্সার ক্যারিয়ার রেকর্ডটা ৪৯-০ এর পরিবর্তে ৫০-০ হলেই কী ভালো হতো না! সেটা করতেই আবার একটি লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দেন মার্কিন বক্সার। কিন্তু রিংয়ে তার মুখোমুখি হবেন কে?

সাহস করে এগিয়ে আসেন ম্যাকগ্রেগর। মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় হলেও প্রথম বারের মতো বক্সিং রিংয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেন। এবং সেটাও কিংবদন্তি মেওয়েদারের বিপক্ষে। ম্যাকগ্রেগরের এই সাহসই লড়াইটাকে দেয় অন্য রকম উন্মাদনা। ৪ বছর আগেও ম্যাকগ্রেগর ছিলেন পানির মিস্ত্রি। সেই তিনিই মিক্সড মার্শাল আর্টের মাধ্যমে রাতারাতি বিখ্যাত হয়েছেন। অর্জন করেছেন যশ, খ্যাতি। সেই ম্যাকগ্রেগর যখন পেশাদার বক্সিংয়ে অভিষেকেই মেওয়েদারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দেন, দর্শকদের আগ্রহটা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

যে উন্মাদনা টিকিটের মূল্যটাকে বাড়িয়ে করে ফেলে আকাশচুম্বি। তবে প্রতিটি জ্যাব আর পাঞ্চে দর্শকদের পয়সা উশুল করে দিয়েছেন মেওয়েদার। সঙ্গে কামিয়ে নিলেন বিশাল অঙ্কের টাকা। সঙ্গে প্রশ্ন তুলে দিলেন, এক লড়াইয়েই এতো টাকা পেয়ে এবার কী কাণ্ড করবেন মেওয়েদার?

প্রশ্নটা তুলে দিচ্ছে ২০১৫ সালের সেই ঘটনাটা। ৪৯তম লড়াইয়ে জিতে বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানি পান ‘মানি’ ডাক নাম পেয়ে যাওয়া এই বক্সার। সেই চেক ভাঙিয়ে বস্তাভর্তি ডলার নিয়ে মেওয়েদার যান নিজের রুমে। বস্তা থেকে ডলারের বান্ডিলগুলো রেখে তার উপর শুয়ে পড়েন! তাতেও যেন পুরো শান্তি পাচ্ছিলেন না। পরে ডলারগুলো বিছানায় ছড়িয়ে দিয়ে তার উপর শুয়ে পড়েন!

এবার আরও বেশী টাকা পেয়ে মেওয়েদার নিশ্চয় আরও বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনাই করছেন।
উল্লেখ্য, সাহস দেখিয়ে লাভ হয়েছে ম্যাকগ্রেগরেরও। লড়াইয়ে হারলেও পেয়েছেন বাহবা। সঙ্গে কামিয়ে নিয়েছেন ১০০ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১৯ ঘণ্টা, ২৭ আগস্ট ২০১৭
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসএফ