এই নারীর অভিযোগেই জেলে রাম রহিম

ভারতের স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু গুরমিত সিংহ রাম রহিমের কথা এখন জানেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ধর্ষণের দায়ে এখন ২০ বছরের জেল খাটছেন তিনি। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেওয়ার দিনে ভারতের বেশ কিছু প্রদেশে শুরু হয় তোলপাড়। তারপর থেকে প্রতিদিনই এই ধর্মগুরুকে নিয়ে সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এবার সব কিছুকে ছাপিয়ে সামনে এসেছেন সেই নারী, যার সাহসী পদক্ষেপেই মুখোশ উন্মোচন হলো কথিত বাবার। যদিও এখনো তার নাম জানা যায়নি।

গুরমিত সিংহ রাম রহিমের ছিল ধর্ষণ চেম্বার। এর নাম ‘বাবা কি গুফা’ (বাবার গুহা)। বিলাসবহুল আসবাব, রঙ-বেরঙের পর্দায় সাজানো সেই প্রাসাদেই তিনি বসবাস করেন। গুফায় তাকে ঘিরে থাকেন ২০০ জনেরও বেশি বাছাই করা শিষ্য। তাদের চুল খোলা। পরনে সাদা রঙের পোশাক। এমনই দুই শিষ্যকে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বাবা রাম রহিম।

যে দুই নারী রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন, ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) বিচারকদের সামনে তাদের জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ধর্ষণের প্রায় ১০ বছর পর রাম রহিমের দুই সেবিকার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় ২০০৯ ও ২০১০ সালে।

মূলত এ দু’জনের নির্যাতিত হওয়ার বয়ান রেকর্ড হওয়ার মধ্য দিয়ে বিতর্কিত ধর্মগুরুর সাজার ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
জানা গেছে, বাবা কি গুফায় সবাই যেতে পারেন না। প্রবেশাধিকার আছে মাত্র কয়েক জনের। তাও আঙুলের ছাপ, চোখের মণি-র মতো বায়োমেট্রিক তথ্য পাওয়ার পরই ভিতরে যাওয়ার অনুমতি মেলে। ধর্মগুরু হলেও রাম রহিমের পছন্দ শিফনের রঙবেরঙের জামা, বাহারি জুতো। তার জামাকাপড় তৈরির জন্য নিজস্ব ফ্যাশন ডিজাইনার রয়েছেন।

ধর্ষণের শিকার দুই নারী অভিযোগ করেন, রাম রহিম যখন ধর্ষণ করতেন, তখন তিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করতেন এবং দেবতার মর্যাদায় নিজেকে অধিষ্ঠিত করার চেষ্টা করতেন। এছাড়া রাম রহিমের ধর্ষণকাণ্ডকে তার ভক্তরা ‘মাফি’ (ক্ষমা) বলে অভিহিত করতেন। নিজের গোপন ডেরায় আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে নারীদের সম্মোহিত করার চেষ্টা করতেন রাম রহিম।

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৬ ঘণ্টা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/পিকে