পাইলস কী, কেন হয়?

পাইলসকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হেমরোয়েডস বলা হয়। মলদ্বারের নিচের অংশে এক ধরনের রক্তের গুচ্ছ- যেটা আঙ্গুরের মতো ফুলে যায়, ফলে মল ত্যাগ করলে বা মল ত্যাগ না করলেও সেখান থেকে প্রায়ই রক্তপাত হয়। এটিই হচ্ছে পাইলস।

কী কী কারণে পাইলস হয়?

সাধারণত যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের এটি বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া সাধারণ কারণও হতে পারে। বাচ্চাদের অনেক সময় হয়, গর্ভাবস্থায় এটা বেশি হয়। আবার অনেকে যথাসময়ে মল ত্যাগ করেন না, আটকে রাখেন- এসব কারণেও হয়। যাদের স্বাভাবিক মলত্যাগ হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার আশঙ্কা কম।

পাইলস রোগে করণীয়:

১. কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং আটকে না রেখে যথাসময়ে মলত্যাগ করা।

২. পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি (প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস) পান করা।

৩. সহনীয় মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা।

৪. প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো।

৫. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।

৬. সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা।

৭. মল ত্যাগে বেশি চাপ না দেওয়া

৮. দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া থাকলে তার চিকিৎসা নেয়া।

চিকিৎসা:

রোগের তীব্রতার উপর পাইলসের চিকিৎসা নির্ভর করে। প্রথমত, ওষুধ ব্যবহার করা হয়। রক্তপাত না হলে এক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। রক্তপাত থাকলে ওষুধের সাথে সাপোজিটরি ও অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করা হয়। যদি পাইলস বেরিয়ে আসে তবে ব্যান্ড লাইগেশন করা হয়। ব্যান্ড লাইগেশন ও ইনজেকশন ব্যথামুক্ত সফল চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না।

দ্বিতীয়ত, রোগীকে অপারেশন করানো হয়। পাইলস যখন মলদ্বারের বাইরে অবস্থান করে এবং ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না অথবা প্রবেশ করানোর পর আবার বের হয় আসে তখনই অপারেশন করাতে হয়। দুই পদ্ধতিতে অপারেশন করা যায়। পুরনো পদ্ধতিতে রোগীকে অনেকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। নতুন পদ্ধতিতে রোগীকে একদিনের বেশি হাসপাতালে থাকতে হয় না। উভয় পদ্ধতিই ব্যথামুক্ত এবং কার্যকর।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৫ ঘণ্টা, ০৮ জুন, ২০১৮

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/কেএনবি