ঘুমের ঘোরেই প্রতিরাতে দাদার যৌন লালসার শিকার নাতনি

ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় এবার দাদার হাতে কিশোরী নাতনী (১০) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (০৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ইসলামপুর বটতলা বাজারে সরেজমিনে গেলে এমন চাঞ্চল্য তথ্যটি বের হয়ে আসে।

স্থানীয়রা জানান, ইসলামপুর এলাকার রিকশাচালক সুবেদ আলীর (৫০) ছেলে সুমন মিয়া কাজের সুবাদে ঢাকায় বসবাস করেন। সুমনের স্ত্রী অনেক আগেই এক কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পরেই স্বামী সংসার রেখে চলে গেছেন।

কিন্তু বাবা সুমন মিয়া ছোট থেকেই তার কিশোরী কন্যাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু গ্রামে থেকে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমসিম খাচ্ছিলেন সুমন। কিশোরীটি স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।

কিছু দিন আগে বাবা সুমন মিয়া জীবিকার তাগিদে ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে ঢাকায় চলে যান কাজের সন্ধানে। তখন ওই কিশোরীকে রেখে যান তার দাদা সুবেদ আলীর কাছে।

সেই সু্যোগেই দাদা সুবেদ আলীর ক্রমাগত যৌন লালসার শিকার হয় ওই কিশোরী। নাতিকে একা পেয়ে প্রতিদিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করতেন তিনি। দাদার এমন আচরণে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন ওই কিশোরী।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দাদার কাছে থাকতেন কিশোরীটি। মা থেকেও নেই। বাবা ঢাকায় কাজ করেন। রিকশাচালক সুবেদ আলীর বাড়িতে নাতনী রক্ষিতা হিসেবে থেকেই দাদার রান্নার কাজ করে দিত। আর সেই রক্ষক দাদাই ভক্ষণ করেছেন নাতনীকে।

ওই কিশোরী অভিযোগ করে বলে, ‘প্রতি রাতেই ঘুমের ঘোরে দাদার যৌন লালসার শিকার হতে হয়। শেষ পর্যন্ত আমি সহ্য করতে না পেরে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি।’

এদিকে সুবেদ আলী তার নাতনীকে অন্য কারও নাম বলার জন্যে ফন্দি খুঁজতে থাকে। তওবা করতে বলে ওই কিশোরীকে। কোরআন শরীফের দোহাই দিয়েও ধামাচাপা দিবার চেষ্টা চালায় সুবেদ আলী। কিন্তু নাতনী সাধারণ মানুষের কাছে মুখ না খুললেও সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে দাদার সকল কুকর্ম ফাঁস করে দেন।

এ বিষয়ে রিকশাচালক সুবেদ আলীর কাছে জানতে চাইলে, তিনি ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেন এবং সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে দাদা সত্যিই এ কাজ করেছেন কিনা তা বলতে পারবো না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আমি স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখে খবরটি শুনেছি। ঘটনাটি খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে হবে। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

বাংলাদেশ সময় : ১৩১২ ঘণ্টা, ০৯ অক্টোবর,  ২০১৭,
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/ডিএ

SHARE