১৪ দিন আগে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া কিংবদন্তি ম্যারাডোনার কী হয়েছিল?

Diego Maradona

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দিয়েগো মারাদোনা। ফুটবল বিশ্বকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়াগো ম্যারাডোনা। বুধবার নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

যদিও ১৪ দিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন ম্যারাডোনা। সেই সময় তার এজেন্ট জানিয়েছিলেন, নিজের রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইচ্ছুক তিনি। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হল না। তার আগেই একেবারে নিঃশব্দে চলে গেলেন তিনি।

কয়েক সপ্তাহ আগে অবসাদ, অ্যানিমিয়া এবং ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ নিয়ে লা প্লাতা একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখা যায়, তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। যে কারণে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে বুয়েনস আয়ার্সের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। চলতি মাসের গোড়ার দিকে সেখানেই তার জটিল অস্ত্রোপচার হয়।

সেই অস্ত্রোপচার সফল হয়েছিল। তারপর থেকেই বাড়ি যাওয়ার জেদ ধরেছিলেন। কিন্তু ঝুঁকি নিতে চাননি চিকিৎসকরা। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। সেই অস্ত্রোপচার এতটাই জটিল ছিল যে ম্যারাডোনার ম্যানেজার জানিয়েছিলেন, সেই সময়টা সম্ভবত ম্যারাডোনার জীবনের ‘কঠিনতম মুহূর্ত’ ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা (অস্ত্রোপচার) তার জীবন নিয়ে নিতে পারত।’

যদিও সেইসব শঙ্কা কাটিয়ে আটদিন পর অর্থাৎ ১১ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। তবে বাড়ি যেতে পারেননি। মদ্যপান সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সরাসরি তাকে বুয়েনস আয়ার্সের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় গত সপ্তাহদুয়েক ধরে সেখানেই ছিলেন তিনি।

এদিকে বুধবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন ম্যারাডোনা। খবর দেওয়া হয় হাসপাতালে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেও যায়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি এই ফুটবল কিংবদন্তির।

সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টে তার জাদুময় পারফরম্যান্স মন ভরিয়ে দিয়েছিল ফুটবল প্রেমীদের।

ক্লাব পর্যায়ে তিনি বার্সেলোনা অধ্যায় শেষে যোগ দেন নাপোলিতে। এখানেও নিজের একক নৈপুণ্যে ইতালিয়ান ক্লাবটিকে দু’টি লিগ শিরোপা জেতান ম্যারাডোনা। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছেন তিনি। খেলেছেন ৪টি বিশ্বকাপে।

ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপেও ফাইনালে খেলে আর্জেন্টিনা। তবে সেবার তারা হেরে যায় পশ্চিম জার্মানির কাছে। পরে ১৯৯৪ সালের যু্ক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় তাকে নিষিদ্ধ করা হয়।