ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে

মোঃ দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা: যাদের জন্ম লোভ থেকে, যাদের অস্থি-মজ্জায় রক্তে লালসা বিরাজমান তারা কখনো ভাল হতে পারে না। তাদেরকে যতই পরিশুদ্ধ করা হোক না কেন একটি নির্দিষ্ট সময় কেটে গেলে – যে লাউ সেই কদুই হয়ে যায়।

এদেশের রাজনীতির অঙ্গণেও এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি। সত্যি কথা বলতে এদেশে জনমানুষের হৃদয় থেকে যে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি তার নাম আওয়ামী লীগ। কত ঘাত-প্রতিঘাত চড়াই-উৎড়াই, বন্ধুর পথ পেরিয়ে টিকে আছে এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ। কত প্রথিতযসা রাজনৈতিক ব্যক্তির সৃষ্টি হয়েছে এই সংগঠন থেকে। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সৈয়দ শামসুল হক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দার্শনিক দেশরত্ন শেখ হাসিনা তাদের মধ্যে অন্যতম।

সুতরাং কোন কালেই, কোন রাজনৈতিক দুর্যোগে কর্মী সংকটে পড়তে হয়নি এই দলকে। কারণ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই বিপদের সময় বুক পেতে দিয়েছে, রক্তে রঞ্জিত করেছে রাজপথ কিন্তু আওয়ামী লীগকে ছাড়েনি, আওয়ামী লীগকে ভোলেনি। কিছু কিছু সময় দলের প্রতিষ্ঠিত কিছু নেতারাই দিগভ্রান্ত হয়ে দলের সাথে প্রতারণা করেছে কিন্তু কর্মীরা করেনি। এদেশের ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু স্বৈরাচার বিরোধী সকল আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সাথে ছিল জনগণ।

আমার প্রশ্ন হলো -তাহলে কেন ২০১৮ সালে এসেও জামাত-বিএনপিকে দলে ধোকাতে হবে?

জামাত-বিএনপির জন্ম কুরক্ত থেকে, লোভ লালসা থেকে, অনেক অসুর লোকের মত। তাই সুর আর অসুর কখনো এক হতে পারে না। আজ যেসব এমপি মন্ত্রী দল ভারি করার জন্য জামাত- বিএনপি দলে ঢোকাচ্ছেন এরাই আপনাদের কাল হয়ে দাঁড়াবে। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন এই জামাত-বিএনপি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তাদের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটা খাই খাই রব ছিলো। বিশেষ করে তৃণমূলের নেতারা জবর দস্তি করে জমি দখল, পুকুর দখল, জোর করে জমির ফসল তুলে নেওয়া, গবাদি পশু নিয়ে যাওয়া, নারী নির্যাতন সকল অপকর্মই তারা করেছে। তারা সর্বদা নিজের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল৷ জনগণের কথা কখনই ভাবে নাই।
এর পর দীর্ঘ দিন সেই সব লোভী নেতা-কর্মী ক্ষমতার বাইরে, পকেটের টাকাও শেষ। কোথায় যাবে তারা?

তারা খোলস পাল্টালো, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নামে তজবী গুনতে থাকে। আওয়ামী লীগের সকল প্রোগ্রামে সবার আগে অংশগ্রহণ, পরিশ্রম কঠোরভাবেই করতে থাকে। যার ফলে আমাদের এমপি মন্ত্রী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের আওয়ামী লীগে প্রবেশ করায়। অনেককে বড় বড় দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু যাদের অন্তর কলূষিত তারা কি কখনো ভাল হয়? হয় না। অসুরগণ যতই মহাদেব, বিষ্ণু, ব্রাহ্মদেবের আরাধনা করুক না কেন তাদের অন্তুরে তো সুরলোক দখল করার চিন্তা। সুতরাং জামাত-বিএনপি যতই বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার নাম যপে কেন তাদের অন্তরে সর্বদা আওয়ামী লীগকে ক্ষতি করার চিন্তা।

আর এই নব্য আওয়ামী লীগরাই গ্রামে গঞ্জে নানা অপকর্মে লিপ্ত। সেই জামাত-বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে তারা যেমন আচরণ করেছিল এখনই সেই আচরণই করছে মানুষের সাথে কিন্তু কলঙ্কের সকল দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর পড়ছে। সুতরাং কথায় আছে- ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে; এটাই স্বাভাবিক। ওরা কখনই ভাল হবে না। ওদেরকে এখনই সময় খুঁজে খুঁজে বের করে দিতে হবে। তারা মরে গেলেও নৌকায় ভোট দিবে না। ওদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে। ওদের কারণেই আজ ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অসহায়, বড়ই অসহায়।

লেখকঃ সাবেক দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

বাংলাদেশ সময়ঃ ১৫৪৫ ঘণ্টা, ২৯ আগস্ট, ২০১৮
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/পিএস