৬ ঘণ্টা পর বাবা আটক, জিম্মি আরেক ছেলে উদ্ধার

রাজধানীর বাংলামোটরের এক বাসায় তিন বছরের ছেলেকে খুনের অভিযোগে বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে ছয় ঘণ্টা পর আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বাবার হাতে জিম্মি হওয়া অপর ছেলে সুরায়াতকে উদ্ধার করা হয়েছে। নুরুজ্জামানের ভাই উজ্জ্বল জানান, তার ভাই মাদকাসক্ত। এই কারণে তার স্ত্রীরা তাকে ছেড়ে গেছেন। দুই স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ছেলে সাফায়াত (৩) ও সুরায়াত (৫) কে নিয়ে বাংলামোটরের ১৬ লিঙ্ক রোডের বাসায় থাকতেন নুরুজ্জামান।

ছোট ছেলেকে হত্যার খবর পেয়ে বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে র‌্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাসাটি ঘিরে রাখে। কিন্তু বাসার ভেতরে রামদা নিয়ে অবস্থায় নেওয়ায় পুলিশের পক্ষে নুরুজ্জামানকে ধরতে বেগ পেতে হয়। ভেতর থেকে বাড়িটিতে প্রবেশের গেটে তালা মারা থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান বিলম্বিত হয়। পরে পুলিশ কৌশলের আশ্রয় নেয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-২ এর কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম পরিস্থিতি বুঝতে কৌশলে বাড়িটির ভেতরের একপাশে যান। ফিরে এসে তিনি জানান, একটি টি টেবিলের ওপর বাচ্চাটাকে কাফন পরিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় তিনি মাদকাসক্ত ওই বাবার কাছে জানতে চান তার সহযোগিতা প্রয়োজন কি না? উত্তরে তিনি বলেন, কাউকে লাগবে না। আমি ১টার দিকে বের হয়ে আজিমপুর গিয়ে ছেলেকে দাফন করব। আপনাদের কে ডেকেছে? আপনাদের কাউকে লাগবে না।

শহিদুল জানান, সকালবেলায় তিনি একজন মৌলভীকে ঘরে ডেকে নিয়ে গেছেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৭টার দিকে নুরুজ্জামান তার আরেক ছেলে সুরায়েতকে কোলে নিয়ে একটি রাম দা হাতে বাসার সামনের রাস্তায় ঘোরাঘুরি করেছেন। তার আগে পাশের মসজিদের মাইকে জানিয়ে দেন তার ছোট ছেলে মারা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের ভেতর থাকা মৌলভীকে কনভিন্স করা হয় যে আপনারা বাইরে বের হয়ে আসেন জানাজার সব ব্যবস্থা করা হবে। মৌলভীর সঙ্গে কথামতো জানাজার ব্যবস্থাও করা হয়। এরপর অপর ছেলে সাফায়াতকে নিয়ে নুরুজ্জামান বের হয়ে আসে। আর ওই মৌলভী মৃত শিশুকে নিয়ে বের হন। এ সময় নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়।

অভিযান শুরুর আগে ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক আবদুস সহিদ বলেন, ‘আমরা বাসার ভেতরে গিয়ে একটা লাশ দেখতে পাই। ওই সময় নুরুজ্জামান আমাদের বলেন, আপনারা সরে যান। তা না হলে এই ছেলেকেও কুপিয়ে মেরে ফেলব।’

এরপর ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা চলে আসেন। অভিযানের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হোসেন বলেন, ‘ বাস্তব অবস্থা মাথায় রেখে আমাদের কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়েছে। যেহেতু আরেক ছেলে জিম্মি ছিল, তার নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের ভাবতে হয়েছে।’

আবুল হাসান আরও জানান, এর আগে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে নুরুজ্জামান কাজলকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

রমনার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আজিম উদ্দীন বলেন, ‘বাচ্চাটি মারা গেছে, না মেরে ফেলা হয়েছে তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন শেষে জানা যাবে।’

তিনি আরও বলেনম ‘পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনদের সঙ্গে নুরুজ্জামান বহুদিনের দ্বন্দ্ব ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/বিএনকে