প্রিয় বন্ধুর রক্তমাখা দেহ দেখে সহপাঠীদের অঝোর কান্না

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন বছর খানেক আগে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। অকালে ঝরে গেছে তার প্রাণ। এটা মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের অকাল বিদায়ে সহপাঠীদের কান্নায় হাসপাতাল চত্বরের অাকাশ-বাতাস যেন ভারি হয়ে ওঠে। বলছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদুল হাসানের শেষ বিদায়ের প্রেক্ষাপট। রিকশায় অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার সময় মাথায় আঘাত লেগে ওই ছাত্রের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান মাহমুদুল হাসান। একপর্যায়ে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে তিনি আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সহপাঠীরা জানিয়েছেন মাহমুদুলের হাইপ্রেসার থাকায় এর আগেও তিনি বেশ কয়েকবার অজ্ঞান হয়েছেন। এবার আর তার শেষ রক্ষা হলো না।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, মাথায় আঘাতে চবি ছাত্রের মাহমুদুল হাসানের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

নিহত মাহমুদুল জয়পুরহাট জেলার আবদুল মালেকের ছেলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মাস্টারদা সূর্যসেন আবাসিক হলে থাকতেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসক কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব জানান, ওই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত ছিল। নাকে রক্ত ঝরছিল। তার ওজন অনেক ছিল। তার বন্ধুরা জানিয়েছেন তার উচ্চ রক্ত চাপ ছিল। আগেও বেশ কয়েকবার অজ্ঞান হয়েছিলেন। আমরা তাকে এখানে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। পরে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে মাহমুদুল হাসানের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে বন্ধুরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বন্ধুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে জরুরি বিভাগের পরিবেশ। লাশ ঘরে প্রিয় বন্ধুর রক্তমাখা নিথর দেহ এক নজর দেখে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন সায়মা নামে এক শিক্ষার্থী। শত চেষ্টায়ও সহপাঠীরা তাকে সেখান থেকে সরাতে পারেননি।

শুধু সায়মা নয় মাহমুদুলের অন্য সহপাঠীদেও চোখেও ঝরেছে পানি। প্রিয় বন্ধুকে অকালে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সহপাঠীরা। জানিয়েছেন, ক্লাসের সবার প্রিয়মুখ ছিল হাসান। মিশুক ও প্রিয় বন্ধু অকালে হারিয়ে ফেলার কথা তাদের কল্পনাতেও অাসেনি।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/কেএস