‘প্রিয়ন্ময়ী পরীর মায়া ভরা চোখ আমাকে চোখ বুজতে দেয় না’

শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো জাতি। সোমবার (১২ মার্চ) ঢাকা থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে কাঠমান্ডুতে নামার সময় নেপালে বিধ্বস্ত হয়েছে ইউএস বাংলার বিমান। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ এ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শোকবার্তা দিয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন। তিনি লিখেছেন-

“বিবাহবার্ষিকী আগাম পালন করতে নেপাল যাচ্ছিলেন মেহেদী রাঙা হাতে বোর্ডিং কার্ড সহ পাসপোর্ট ধরে রাখা Tahira Shashi… লিখেছিলেন #স্পেশাল মার্চ… ছিল প্রিয়তম মানুষটির সাথে ছবি… আরো লেখা #মোমেন্টজ_উইথ_হিম… মেহেদী পরা, আধপোড়া সেই হাতটি দেখেই কি তাকে সনাক্ত করা হয়েছে..? তার পরিবারের কাছে বাকি জীবনের কোনও মার্চ কি আর ‘স্পেশাল’ হবে..? কাঠমুন্ডু হাসপাতালের আইসিইউ তে থাকা প্রিয় মানুষটির সাথে তার শেষ ‘মোমেন্টস’ গুলো কেমন ছিল..? ‘অ্যান্ড হিয়ার দ্য জার্নি বিগিন্স…’ এ কোন যাত্রার শুরু তার..?

এই মেয়েটির চেহারা চোখের সামনে থেকে দূর করতে পারছি না কেন..! কালো চশমা ভেদ করে দু’টি করুণ চোখ আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে…

তিন বছরের ছোট্ট জীবনে বাবা-মা’র সাথে হয়তো প্রথমবারের মত বিমানে চড়ে আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছিল ‘প্রিয়ন্ময়ী’… ফেসবুকে ভ্রমণের আগে সবার কাছে দোয়া চেয়ে তার মায়ের দেয়া ছবি তোলার সময় একটা টুকটুকে লাল সুটকেসের পিছে দাঁড়িয়ে ছিল ফুটফুটে ঐ বাচ্চাটা… বিধ্বস্ত বিমানের পাশে পড়ে থাকা একটা লাল সুটকেসের ছবি ফেসবুকে ছড়ানো… আচ্ছা এটা কি ‘প্রিয়ন্ময়ী’র বাবা-মা’র সুটকেস..? এই সুটকেসে করে মা আর বাবা কি তাদের বাবুটার জন্য পরীদের মত জামা এনেছিল..? বেড়াতে গিয়ে কতই না ছবি তোলা হবে তাদের পরী বাবুটার..! পরীর বাবা যে ফটোগ্রাফার ছিল…

আচ্ছা পরীর বাবা যখন বুঝে ফেলল সবকিছু, চোখের সামনে দেখতে পেল মৃত্যু দূত, তখন নিজের কথা ভুলে কিভাবে জড়িয়ে ধরেছিল তার ‘প্রিয়ন্ময়ী’কে..? আর পরীর মা..? আহারে বেঁচে থাকা..! এ কেমন বেঁচে থাকা..!

লাল সুটকেসের আড়াল থেকে তাকিয়ে থাকা ‘প্রিয়ন্ময়ী’ পরীর মায়া ভরা চোখ- আমাকে চোখ বুজতে দেয় না… বারবার তার মা’এর প্রোফাইলে গিয়ে আমি পরীর মুখে কথা ফোটার ভিডিও দেখি…
প্লেনে ওঠার আগে পিয়াস রায়-এর এর ফেসবুক পোস্ট ‘#টাটা মাই কান্ট্রি ফর ফাইভ ডেইজ’… কে জানত নিজ দেশে তার আর জীবিত ফেরা হবে না..!

ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকা ‘…রূপা ফেব্রিকস’ এর কাপড়ের ব্যাগের পাশে আধপোড়া ‘ডেভিডসন্স মেডিসিন’ বই… প্রিয়জনকে পাঠানো কোনো উপহারের বাক্স থেকে ছিটকে পরা নোট যাতে লেখা ‘জানি না তোমার পছন্দ হবে কি হবে না তবুও, গায়ে জড়িয়ো!!!’…

অস্থির লাগে… আর পারি না… অচেনা মানুষগুলোকে খুব কাছের পরমাত্মীয় মনে হয়…”

বাংলাদেশ সময়: ১৪২২ ঘণ্টা, ১৩ মার্চ, ২০১৮

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/কেএনবি