নামি-দামি কোম্পানির নামে বাজারে নকল ওষুধ

 ‘ওষুধের প্যাকেটের গায়ে নামি-দামি কোম্পানির নাম দেখে বোঝার কোনো সুযোগ নেই যে এগুলো নকল ওষুধ। সুকৌশলে ভালো ভালো কোম্পানির ও প্রতিষ্ঠানের নামের সিল মেরে নকল ওষুধ বাজারে ছাড়ছে একটি প্রতারক চক্র। তাদের এমন প্রতারণা প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ঝূঁকিপূর্ণ। তাদের এমন প্রতারণা হত্যাকাণ্ডের চেয়েও মারাত্মক অপরাধ’—বলছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।

রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে বারোটায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘দেশে নানা অপরাধ সংগঠিত হয়। অপরাধীরা নানান কৌশল অবলম্বন করে মানুষকে ঠকায়। কিন্তু ওষুধের মত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়কে সুকৌশলে নকল করে প্রতারণা করা এটা কিভাবে সম্ভব! এটা তো মানুষ হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ। ভাবতেও অবাক লাগে তারা এ কাজটাই বেছে নিল। যেটি প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি জানান, গতকাল বিকেলে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা যাত্রাবাড়ির জনপদ মোড় এলাকার আব্দুস সাত্তার নামে একজনের বাড়ির নিচ তলায় নকল ওষুধ বানানো অবস্থায় হাতে-নাতে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় আব্দুস সোবহান (৩৫), নাইমুর রহমান ওরফে তুষার (১৭), রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মৃদুলকে (১৯) জি পেথেডিন নামের ইনজেকশন তৈরিকালে এবং অপরজন নারগিস বেগম (৩৪) এবং ওয়াহিদকে নকল ওষুধ প্যাকেটজাত করার সময় আটক করা হয়।

এসময় নকল ওষুধ বানানোর মেশিন, প্রিন্টার, স্কিন মেশিন, ২৫টি রংয়ের কৌটা, ২০টি ওষুধ তৈরির তারিখ ও মূল্য এবং ব্যাচ লেখার সিল, ৩০০ বোতল জেসন কোম্পানির সাদা পানি, ৩টি ড্রামে ৮৪ হাজার সেক্স পাওয়ার ক্যাপসুল, ৬৫টি ইনসুলিনসহ বিভিন্ন কোম্পানির নামে তৈরি করা সব ওষুধ জব্দ করা হয়।

আব্দুল বাতেন বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানি রেনেটার রোলাক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনসুলিন ও প্রিমিয়ার ফার্মাসিটিক্যালসের এলার্ট টেবলেটসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে নকল ওষুধগুলো বাজারজাত করেছিল। এতে সাধারণ মানুষের সহজেই বোঝার কোনো সুযোগ নেই যে এসব ওষুধ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাদের চক্রটি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে। কেউ কেউ দালাল চক্র হয়ে কয়েকটি ফার্মেসিতে এসব ওষুধ নামমাত্র মূল্যে রেখে দিয়ে সেগুলো বিক্রি হলে সবাই মুনাফা বণ্টন করে নেয়। তাদের মধ্যে আব্দুস সোবহান আগে একটি ল্যাবটরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছিল। সেখান থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসব নকল ওষুধ তৈরি করছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘এসব নকল ওষুধ পরিহার করতে জনসচেতনার বিকল্প নেই। কারণ এগুলো মানষের কোনো কাজে আসে না, উল্টো মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়। গ্রেফতারকৃতদের বিশদ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে এসব নকল ওষুধ যেসব ফার্মেসিতে আছে সেখান থেকেও অপসারণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/বিএনকে