রসিকতা করে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাকে কি বললেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপে বেশ খোলামেলা আলোচনাই হয়েছে দুই জোটের নেতাদের মধ্যে। সেখানে পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্যও ছিল না। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বভাবসুলভ রসিকতা ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের নিয়ে নানা টিপ্পনীও বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সরস বক্তব্য সংলাপের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের নিয়ে রসিকতা প্রধানমন্ত্রীর : সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের মঙ্গলবারের জনসভার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জনসভায় তার সম্পর্কে মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে মান্না, দলে নিয়ে এসে সাংগঠনিক সম্পাদক বানালাম। আহা, কী সাংঘাতিক বক্তৃতা আমার বিরুদ্ধে! বক্তৃতা দেওয়া ভালো, দাও ভালো করে দাও।’

জবাবে মান্না বলেন, ‘বক্তৃতা না দিলে আমার রাজনীতি থাকে না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাহলে তুমি আরও বক্তৃতা দাও, আরও দাও!’ এক পর্যায়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আপনি চৌমুহনী কলেজের ভিপি ছিলেন, আমিও বদরুন্নেছা কলেজের ভিপি ছিলাম। আমার এখানে তো ছিলেন, মন্ত্রিত্বও পেয়েছিলেন। আবার ওখানে গেলেন।’

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ভারতে গিয়েছিলে, সত্য। আমি তো তোমাকে এনে ডাকসুর ভিপি করলাম। এরপর রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে বাকশাল করে আমার বিরুদ্ধে চলে গেলে। আবারও ছাত্রলীগের সভাপতি করলাম, এমপি করলাম! তুমি তো এদিক-ওদিক ঘোর। যারা এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করে, তারা কোনোদিনই কিছু হতে পারে না।’

নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরামকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগ করেন। আজ ওদিকে গিয়ে বসেছেন কেন?’ এস এম আকরাম জানান, তিনি মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে এসেছেন। এ সময় টিপ্পনী কেটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ও আপনিও দল পাল্টাইছেন, খুব ভালো কথা।’

প্রধানমন্ত্রী এর পর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বলেন, ‘আপনি তো ছাত্রলীগ করতেন, এখন সুবিধা যেদিকে পেয়েছেন, সেদিকে গেছেন।’ এ সময় ড. মোশাররফ হেসে বলেন, ‘নেত্রী, নেত্রী, নেত্রী।’

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে ড. কামাল হোসেনও ছাড় পাননি। প্রবীণ এই নেতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘চাচা আপনাকে নিয়ে তো সবকিছুই করেছি। আপনি সংবিধান বানাইছেন, সুবিধা যেখানে সেখানেই গেছেন। আপনাদের প্রোগ্রামটা খুবই মজা হয়েছে। খুবই ইন্টারেস্টিং হয়েছে।’


ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মওদুদ সাহেব ওয়ান-ইলেভেনের সময় জেলে ছিলেন। আবারও জেলে যেতে চান।’ মওদুদ বলেন, ‘নেত্রী, একটা স্পেস চাই।’ তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন কোনো স্পেস দেব না যে অন্ধকারের লোকরা আবার আসতে পারে। অন্ধকারের লোকদের আমি আসতে দেব না। লখিন্দরের বেহুলার ছিদ্র আমি আর রাখব না। জেলে যাওয়ার শখ হলে ওগুলো নিয়ে থাইকেন। আমি জানি সহিংসতা কীভাবে মোকাবেলা করতে হয়, সেটা আমি ২০১৩-১৪ সালে বুঝেছি।’ এ সময় মওদুদ বলেন, ‘না, নেত্রী আমি ঠিক করেছি, আর কোথাও যাব না। শুধু চাই একটা স্পেস।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা কথা বললেন নেতারা :সংলাপ শেষ হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা কথা বলেন। মির্জা ফখরুল কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভালো কথা। দেখা করতে চান, অবশ্যই দেখা করবেন। আমি বলে দেব।’

ব্যারিস্টার মওদুদ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমার বাড়িটা নিয়ে গেলেন কেন নেত্রী?’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাড়িটা নেওয়া হতো না। আপনি জালিয়াতি করতে গেছেন কেন? আদালত বলেছে, আপনাদের বাড়ি না। বাড়িটা যদি আপনি কবি জসীমউদ্‌দীনের মেয়ের নামে লিখে দিতেন, তাহলে আমি কিছুই করতাম না। আপনি বাড়ি নিয়ে দিছেন আপনার ভাইয়ের নামে। আমাদের ফরিদপুরের মেয়ের নামে দিলে কিন্তু আমি এটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতাম না।’ মওদুদ বলেন, ‘তাহলে আমি এখন তার নামে ফেরত দেব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘না, না আপনাকে আর বিশ্বাস করা যায় না।’

মাহমুদুর রহমান মান্নাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ও কী কথা বলবে! সকালে একটা আর বিকেলে আরেক কথা বলে। ওর সঙ্গে কী কথা বলব। সে নির্বাচন করতে চায়, করুক।’ এ সময় মান্না বলেন, ‘আমি জোট ছাড়া কীভাবে নির্বাচনে আসি!’ জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে মান্না বলেন, পত্রিকায় যা লেখা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, ‘মান্না বলেছেন, জীবন দিয়ে দেব, তবু খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে ছাড়ব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মান্না তুমি এসব কথা বলেছ?’ মান্না বলেন, ‘আমি ওখানে যা বলেছি, আমার কথা পত্রিকায় মিসকোট করা হয়েছে। আমি এমন কথা বলিনি।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেলিভিশনে সবকিছু আছে। ‘ সূত্র-সমকাল।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/বিএনকে