Home আইন-আদালত স্কুলে বাবাকে চরম অপমানে মেয়ের আত্মহত্যা, ৩ সদস্যের কমিটি

স্কুলে বাবাকে চরম অপমানে মেয়ের আত্মহত্যা, ৩ সদস্যের কমিটি

- Advertisement -

স্কুলে বাবার অপমান সইতে না পেরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আগামী তিন দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে এই কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস বলেন, ‘তদন্তে সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

- Advertisement -

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শান্তিনগর এলাকার একটি বাসা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অরিত্রি অধিকারী (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বজনদের অভিযোগ, গতকাল স্কুলের শিক্ষকরা সবার সামনে অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারীকে অপমান করেন। তাই বিষয়টি সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অরিত্রি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবাকে অপমান নয়, বরং পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল অরিত্রি। তাই বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় মেয়েটি এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

অরিত্রির বাবা সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী দিলীপ অধিকারী জানান, শান্তিনগরে সাত তলা ভবনের সপ্তম তলায় সপরিবারে থাকেন তারা। দুই বোনের মধ্যে বড় অরিত্রির বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। গত রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। মোবাইলে নকল আছে এমন অভিযোগে স্কুলের শিক্ষকরা অভিভাবক ডেকে পাঠান। তাই গতকাল অরিত্রির সঙ্গে দিলীপ অধিকারী ও তার স্ত্রী স্কুলে যান। এ সময় তারা ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে গিয়ে মেয়ের ব্যাপারে ক্ষমা চান তিনি। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে তাদের অধ্যক্ষের রুমে যেতে বলেন। সেখানে গিয়েও তারা ক্ষমা চান। কিন্তু প্রিন্সিপালও তাদের প্রতি সদয় হননি।

এ সময় অরিত্রি প্রিন্সিপালের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলে তিনি সবাইকে উচ্চস্বরে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন অরিত্রিকে টিসি দেওয়া হবে বলে জানান। এর পর অরিত্রি দ্রুত বাসায় চলে যায়। পেছন পেছন তার মা-বাবাও বাসায় গিয়ে দেখেন অরিত্রি নিজ রুমে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন তারা। সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিলীপ অধিকারী দাবি করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়ের সামনেই আমাকে অনেক অপমান করেন। এ অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছে অরিত্রি। তিনি দোষী শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস বলেন, অরিত্রি তার মোবাইল ফোনে বইয়ের বেশ কিছু পাতার ছবি তুলে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে। বিষয়টি নজরে আসে শাখাপ্রধানের। পরে শিক্ষার্থীর মা-বাবাকে ডেকে এনে তাদের পুরো ঘটনা খুলে বলা হয়। এর পর অরিত্রিকে বহিষ্কারের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। কাউকে কোনো অপমান করা হয়নি। তাই বাবাকে অপমানের জন্য নয়, নকলে ধরা পড়ে লজ্জায় অরিত্রি আত্মহত্যা করতে পারে।

পল্টন থানার এসআই আতাউর রহমান জানান, অরিত্রি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে তার মৃত্যুর পেছনে কারও প্ররোচনা ছিল কিনা তদন্তের পর তা জানা যাবে।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/পি

- Advertisement -