কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল, ৪০০ কোটি টাকা ব্যবসার আশা

বছরজুড়ে দু-চারবারই তো এমন ফুসরত মেলে। তাই সময়টাকে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দে খুশিতে ভাগাভাগি করে নিতে কে না চায়। চায় মন খুলে একটু দূরে কোথাও খুলে আসতে। মুক্ত বাসাতে কিছুটা সময় ডানা মেলে পাখি হয়ে উড়তে চায়। আর এসবের বড় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায় পহেলা বৈশাখ, ঈদ কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবগুলোতে।

প্রতি বছরের মতো এবছরও সাগরকন্যার কোলে আড়ছে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষ। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এখন জনস্রোতের ঢেউ জেগেছে। ছোট বড় নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দীর্ঘতম এই সাগর সৈকত।

তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় নৌ-চলাচল বন্ধ, ফলে মানুষ প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, মহেশখালীর সোনাদিয়া ও আদিনাথ মন্দিরে যেতে পারছে না। এ কারণে পর্যটকরা সৈকতেই অবস্থান করছে। এ সুযোগে সৈকতকেন্দ্রিক হোটেল-মোটেল মালিকদের ব্যবসায় জোয়ার এসেছে। তারা এই ঈদে অন্তত ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে আশা করছেন।

হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি পর্যটক জড়ো হয়েছে সৈকতে। সঙ্গে আছেন স্থানীয় আরও অন্তত অর্ধলক্ষ লোক। সব মিলে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত এখন পর্যটকে ভরপুর।

ঈদের ছুটি শেষ হতে চললেও অনেকেই একটু বাড়তি সময় হাতে নিয়েছে ঈদ কাটাচ্ছেন। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে দূরে কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন। তাই এবার ঈদকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহে হোটেল-মোটেল, কটেজ, গেস্টহাউজ, রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুমের ভ্রমণকে কাজে লাগানোর জন্য এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল মালিকরা কক্ষ ভাড়ায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ রেয়াত দিচ্ছেন।

সমুদ্রসৈকতের কলাতলী এলাকার এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় তারকা মানের আটটিসহ হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউজ ও কটেজ আছে প্রায় ৪৫০টি। এসব হোটেলে দৈনিক দেড় লাখ মানুষের রাত যাপনের ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে কটেজ আছে ১৬৫টি।

শনিবারও দুপুরের পর থেকেই সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টেনে ঈদ কেন্দ্রিক পর্যটকের ঢল নামে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কলাতলী পয়েন্টে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এসব পর্যটকদের জন্য বাড়তি লাইফগার্ড কমী, ডুবুরি ও ট্যুরিস্ট নিয়োজিত আছে। যেন উত্তাল সাগরে ঢেউয়ের ধাক্কায় কোনো পর্যটক যেন ভেসে না যায়। ভাটার সময় গোসলে নামলে জলের টানে গভীর সাগরে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, এ ব্যাপারে লোকজনকে সতর্ক করতে বালুচরে ওড়ানো হচ্ছে লাল পতাকা। আর জোয়ারের সময় গোসলের জন্য নিরাপদ— এ বার্তা দিতে ওড়ানো হচ্ছে সবুজ পতাকা।

তবে ‍ঈদ ঘিরে আক্ষেপ আছে পর্যটকদের। তাদের অনেকেরই মন খারাপ সাগর উত্তাল থাকায় নৌ-যোগাযোগ বন্ধ থাকার কারণে সেন্ট মার্টিন যেতে না পারায়।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্র জানায়, ঈদের কয়েক দিনের ছুটিতে পাঁচ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ১২২ জন ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কিছু সদস্য কাজ করছেন।

বাংলাদেশ সময়ঃ ১৬৪০ ঘণ্টা, ২৫ আগস্ট, ২০১৮
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/বিএনকে