‘বিশ্বাস করি আমার ব্রাজিল পারবে’

সাক্ষাৎকার: নেইমার

ঘরের মাঠে ২০১৪ বিশ্বকাপে কেঁদেছিলেন নেইমার। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে চোটে পড়েছিলেন। সেমিফাইনালে ছিলেন দর্শক। জার্মানির কাছে ১-৭ গোলে হেরে লজ্জায় ডুবেছিল ব্রাজিল। তাকে ছাড়া কতটা অসহায় ছিল ব্রাজিল, বোঝা গিয়েছিল। চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপ। চোট-শঙ্কা এবারও আছে। এখনও শতভাগ ফিট নন। তবে নেইমার জানিয়েছেন, তিনি প্রস্তুত। বিশ্বাস করেন, ব্রাজিল এবার বিশ্বকাপ জিতবে

প্রশ্ন: আবার একটা বিশ্বকাপ। এবার ব্রাজিল পারবে?

নেইমার: বিশ্বাস করি, আমার ব্রাজিল পারবে। দলটা ভার। আমরা পরিশ্রমও করেছি। আসল কথা, জেতার যোগ্যতা আছে।

প্রশ্ন: এত জোর দিয়ে বলছেন কী করে?

নেইমার: এবার দক্ষিণ আমেরিকা গ্রুপ থেকে আমরাই প্রথম বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছি। বাছাই পর্বে ১৮টি ম্যাচ খেলেছি। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন পরিবেশে, যা অবশ্যই বড় পরীক্ষা ছিল ফুটবলারদের সামনে। আমরা খেলেছি নিজেদের স্টাইলে। ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছি। যা দলের সবার কাছেই ছিল বিশেষ। রাশিয়াতেও একই দাপট দেখাতে চাই।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আপনি ছিলেন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু তারপর চোট পেয়েছেন। অস্ত্রোপচার হয়েছে। আপনার ফিটনেস চিন্তায় রেখেছে অনুরাগীদের। কী বলবেন?

নেইমার: এখন ঠিক আছি। হ্যাঁ, চোট নিয়ে আমিও চিন্তায় ছিলাম। বিশ্বকাপের কথা ভেবেই দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মনে হয়, সব কিছু ঠিক থাকবে। পারফেক্ট হবে আমাদের জন্য।

প্রশ্ন: ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল চোটের জন্য খেলেননি। ব্রাজিল হেরেছিল বাজেভাবে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়- নিশ্চয়ই মনে আছে?

নেইমার: ওই সময়টা পেছনে ফেলে এসেছি। জার্মানির কাছে ১-৭ গোলে হার হজম করা কঠিন। আমার পক্ষে তো আরও বেশি। কারণ চোটের জন্য ম্যাচটা খেলতে পারিনি। ওই চোট আমার ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারত। আর দুই সেন্টিমিটার দূরে লাগলে আজীবন হুইলচেয়ারে কাটাতে হতো। ভাগ্যিস অতটা লাগেনি। তাই তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরতে পেরেছি। যা প্রচণ্ড ভালোবাসি, সেই খেলাটা এখনও খেলতে পারছি। সামনেই আরও একটা বিশ্বকাপ। চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা তৈরি।

প্রশ্ন: গ্রুপ ‘ই’তে আপনাদের সঙ্গেই আছে সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা আর সার্বিয়া। নিজেদের গ্রুপ নিয়ে কী বলবেন?

নেইমার: এটা বিশ্বকাপ। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ৩২ দলের মধ্যে আমরা আছি। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। সুইজারল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস দুর্দান্ত। সার্বিয়া নতুন দেশ হলেও ছাপ রেখেছে। আর কোস্টারিকা? কতটা শক্তিশালী তার প্রমাণ তো রয়েছে চোখের সামনেই। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে পারেনি। ওরা পেরেছে! নকআউট পর্বে উঠতে হলে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।

প্রশ্ন: মেসির সঙ্গে খেলেছেন। রোনালদোর বিপক্ষে লড়েছেন, স্পেনে থাকার সময়। ওদের দু’জনের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কতখানি?

নেইমার: দু’জনেই গ্রেট। এ প্রজন্মের সেরা। মেসির সঙ্গে খেলা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। ফুটবলার হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও দুর্দান্ত। মেসির সঙ্গে একই ক্লাবে খেলাটা ছিল স্বপ্নের মতো। আমার কাছে ও-ই সেরা। তাই বলে রোনালদোকে উপেক্ষা করতে পারব না। ওর কৃতিত্বও অসাধারণ। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আর পর্তুগাল- দু’দলেরই বড় পরীক্ষা। তবে এই দুই জাদুকর সবটুকু উজাড় করে দেবে নিজের দেশকে সেরা ট্রফিটা দেওয়ার জন্য।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে কে ফেভারিট?

নেইমার: ব্রাজিল। এ ব্যাপারে সংশয় নেই। তবে আমাদের সঙ্গেই কয়েকটা দলের নাম উচ্চারিত হবে। যেমন আজেন্টিনা, উরুগুয়ে। তবে এবার যেহেতু ইউরোপে বিশ্বকাপ হচ্ছে, তাই ফেভারিটের তালিকায় ইউরোপের দেশগুলোই বেশি থাকবে। জার্মানি তো গতবারের চ্যাম্পিয়ন। তাছাড়া স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগালও আছে। তাই যে কোনো একটা দলকে ফেভারিট তকমা দেওয়া কঠিন।

বাংলাদেশ সময়: ১২৫২ ঘণ্টা, ০৪ জুন, ২০১৮
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/কেএনবি