দুর্ঘটনার জন্য কুখ্যাত কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর

দুর্ঘটনার জন্য বিশেষ কুখ্যাতি আছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো বিমান অবতরণের পর থেকে বিমানবন্দরটিতে এ পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে (সূত্র: বিবিসি)। শুধু বড় আকৃতির বিমানই নয়, হেলিকপ্টারও বিধ্বস্তের একাধিক ঘটনাও আছে এ বিমানবন্দরে।

পাহাড় বেষ্টিত ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি কাঠমান্ডু উপত্যকায় এবং শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে।সোমবার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-২১১ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালে বিমান চলাচলে নিরাপত্তার দুর্বলতার বিষয়টি আবারও দৃশ্যমান হলো।

বিমানের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশেষজ্ঞ জানান, ত্রিভুবনে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠা-নামার জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণ। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ত্রিভুবন হচ্ছে নেপালের একমাত্র ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এর ব্যবস্থাপনা অপর্যাপ্ত ও দুর্বল।

ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নেই অটোমেটিক ল্যান্ডিং সিস্টেম । ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ত্রিভুবনের রানওয়ের দিকে লক্ষ রাখতে হয় পাইলটদের। রানওয়ের দুই পাশেই রয়েছে পাহাড়। বিমান অবতরণের ঝক্কির পাশাপাশি উড্ডয়নের সময়ও জটিল হিসেব কষতে হয়। বিমানবন্দরের পাশে রয়েছে ২৫০০০ ফুট উচ্চতার অনেকগুলো পর্বত । ১১০০০ ফুট ওপরে নিয়ে যাওয়ার পরই পাইলট ঠিক করতে পারেন বিমানের গতিপথ।

জানা যায়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিয়মিত চলাচল শুরুর কিছুদিন পরই ১৯৭২ সালের মে মাসে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এ সময় একজন নিহত হয়েছেন।

১৯৯২ সালে থাই এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস অবতরণের পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। মর্মান্তিকভাবে নিহত হন ১১৩ জন যাত্রীর সবাই। কয়েকমাস পরেই আরেকটি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মারা যায় ১৬৭ আরোহীর সবাই।

এরকম আরও নানা দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে খারাপ আবহাওয়া ও নিচু মেঘমালার কারণে বুদ্ধ এয়ারের একটি বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। মারা যায় সকল যাত্রী। ২০১২ সালে সিতা এয়ারের একটি বিমান উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। এতে ১৯ জন আরোহীর সবাই মারা যান।

২০১৫ সালে তুর্কী এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ঘন কুয়াশার মধ্যে নামতে গিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়ে। ৩০ মিনিট ধরে এটি বিমানবন্দরের উপর উড়তে থাকে। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় নামতে পারলেও সেটি রানওয়ের থেকে ছিটকে মাঠের ঘাসের উপর চলে যায়। সৌভাগ্যক্রমে ২২৭ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার হন।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সবশেষ শোকগাঁথা রচনা করলো ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-২১১ ফ্লাইটটি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১০ ঘণ্টা, ১৩ মার্চ, ২০১৮

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এস