Home জাতীয় নুসরাত হত্যায় দীর্ঘ হচ্ছে জড়িতদের তালিকা

নুসরাত হত্যায় দীর্ঘ হচ্ছে জড়িতদের তালিকা

- Advertisement -

নুসরাত জাহান রাফির হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে জড়িতদের তালিকা। ঘটনার পরিকল্পনা, হত্যা মিশন বাস্তবায়ন, খুনের মিশনে অর্থ ব্যয়সহ নানাভাবে এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে অন্তত ২৫ জনের সংশ্নিষ্টতা। এ তালিকা বাড়তে পারে আরও। শিগগিরই দেশব্যাপী চাঞ্চল্য তৈরি করা এ মামলার চার্জশিট দাখিল করবে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এদিকে, নুসরাত হত্যায় জড়িত তার সহপাঠী শামীমকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারাফ উদ্দিনের আদালতে শামীমকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত মঞ্জুর করেন পাঁচ দিন। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার এ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

- Advertisement -

পিবিআইর প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, “নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত এগিয়ে চলছে। যাদের এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।”

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একটি তদন্ত দল সোনাগাজীতে নুসরাত হত্যার বিষয়ে পুলিশের গাফিলতি ছিল কি-না তদন্ত করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও স্থানীয়দের লিখিত মতামত গ্রহণ করেছেন।

বিকেলে ডিআইজি রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার চারিত্রিক বিভিন্ন বিষয় তদন্তে উঠে এসেছে। আগেও এরকম কিছু সমস্যা ছিল। তখন যদি গভর্নিং কমিটি ব্যবস্থা নিত, তাহলে এ ঘটনা ঘটত না। তিনি বলেন, গভর্নিং কমিটির সবাই নয়, কিছু সদস্য নুসরাত হত্যায় জড়িত ছিল। তবে যে-ই জড়িত থাকুক, সে যত শক্তিশালী হোক না কেন, গ্রেফতার করা হবে তাকে। তদন্ত কমিটি শুক্রবার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করবে।

পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান এসপি মোহাম্মদ ইকবাল জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় মোট ২৪-২৫ জনের নাম ১৬৪ ধারায় তিনজন আসামির জবানবন্দিতে এসেছে। এখন তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব আসামিকে গ্রেফতার করা হবে। এ পর্যন্ত ১৮ জন গ্রেফতার হয়েছে।

ঢাকা থেকে গ্রেফতার এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরকে ফেনী আদালতে সোপর্দ করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেওয়ার কথা পিবিআইকে জানালে ফেনী কোর্টে হাজির করা হয় তাকে। এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে নুসরাত হত্যার এজাহারভুক্ত সব আসামিকে আটক করা হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক আবদুল কাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর শাহ আলমকে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পিবিআইকে হত্যার পরিকল্পনাসহ সব তথ্য সরবরাহ করেন তিনি।

আবদুল কাদের পুলিশকে জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার মুক্তির জন্য আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কারাগারে অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সম্ভাব্য করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলম জানান, মামলার এজহারভুক্ত আসামি নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম ও আবদুর রহীম শরীফের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শামীমের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে।

আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে- আবদুল কাদের মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন, কারাগারে সাক্ষাৎ করা এবং হত্যাকাণ্ডের দু’দিন আগে গোপন সভায় উপস্থিত ছিলেন। ১২ জনের উপস্থিতিতে নুসরাত হত্যার রূপরেখা নির্ধারণে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তার পরামর্শে হত্যাকাণ্ডে কে কোথায় থাকবে, তা নির্ধারিত হয়।

এদিকে, নুসরাত হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অর্থ-সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখবে সিআইডি। এ ব্যাপারে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, “নুসরাতের ঘটনায় জড়িতদের অবৈধ সম্পদের তথ্যানুসন্ধানের ব্যাপারে তদন্ত করার চিন্তা-ভাবনা চলছে।”

- Advertisement -