মহাকাশ বিজয়ের নিশান বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

মো. মশিউর রহমান

যে জগতে প্রবেশের কথা বাঙালিরা কখনও চিন্তাও করেনি, সেই জগতে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বাঙালিরা আজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অসম্ভব কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত হয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে মহাকাশের দিকে ধাবিত।

সেই ১৯৭৫ সালের ১৪ জুনই বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মহাকাশ জয়ের সূচনা করেছিলেন জাতির পিতা। স্বপ্নের সেই সূচনাকে থেমে দেয় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে। সেই অবিস্মরণীয় বিজয়কে থামিয়ে দেয়া হয়েছিল অনির্দিষ্টকালের জন্য।

প্রতিকূলতা, ঘাত-প্রতিঘাত, বিএনপি-জামায়াত, দেশি-বিদেশি চক্রের অপপ্রচার, মিথ্যাচার, নৃশংসতা, উন্নয়নে বাধা সৃষ্টিসহ হাজারও বাধা মোকাবেলা করে জীবন বাজি রেখে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অব্যাহত রেখেছেন নিজের জীবনকে।

বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দিন-রাত সমানে। হোঁচট খেয়ে বাধা পেয়েছেন অসংখ্যবার কিন্তু পরাজয়ের আভাস বাণী কখনও শুনাননি জাতিকে। হয়ে উঠেছেন জনগণের আস্থার ঠিকানা।

একুশ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে ১৯৯৬ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে সেই স্বপ্নকে আবার গতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে তা আবারও বন্ধ করে দেয়। বাঙালিকে কেউ কোনদিন দাবাই রাখতে পারবে না পারেনিও। এই চিরন্তন সত্য কথাটি মনে হয় ষড়যন্ত্রকারী ভুলেই গিয়েছিল। সেই কথাই যেন বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে শেখ হাসিনার কণ্ঠে।

২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে মহাকাশ জয়ের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে সরকার। ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়।

১১ মে এক নতুন ইতিহাস রচনা গড়ল বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে। স্যাটেলাইট জগতের ক্ষমতাধর ৫৭ তম দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে কেনেডি স্পেস সেন্টারে স্পেসএক্সের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে ‘ফ্যালকন নাইন’ রকেটটি উড়াল দিল।

এখন এটি কোন স্বপ্ন নয়, এটি বাস্তব। এই স্বপ্নই বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন। যা পূরণ হলো বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। বাঙালির আজ গর্বের দিন। ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন।

স্যাটেলাইটটি যেন মাথা উঁচু করে পৃথিবীকে ছাড়িয়ে মহাশূন্যকে জানিয়ে দিল আমরা বাঙালি। আমরা সেই বাঙালি জাতি যারা ভাষার জন্য পিতার নির্দেশে রক্ত দিয়েছে। আমরা সেই জাতি যারা দেশকে স্বাধীন করতে পিতার নির্দেশে ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছি, ২ লক্ষ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছি।

আমরা সেই বাঙালি জাতি যাদের আস্থা জননেত্রী শেখ হাসিনা। সে যেন বলছে কোন ষড়যন্ত্রই আমাদের দাবাই রাখতে পারেনি। আমরা সফল হতে জানি। স্যাটেলাইটটি বিশ্ব মোড়লদের জানিয়ে দিচ্ছে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। যতই ষড়যন্ত্র করেন কোন লাভ নাই। শেখ হাসিনা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন বাঙালিরা চাইলে সবই অর্জন করতে পারে। বিশ্ব মোড়লদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে শেখ হাসিনা বুঝিয়ে দিলেন, আকাশচুম্বি দেশপ্রেম থাকলে অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

নিরাশ, হতাশা,পরাজয়, হুমকি, ধামকি শব্দগুলো যাকে কখনই স্পর্শ করতে পারে নি। সেই শেখ হাসিনাই দেশী বিদেশী চক্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহস আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে সবকিছু মোকাবেলার মাধ্যমে দেশের স্বার্থকে সামনে তুলে নিয়ে মহাকাশে পাড়ি জমিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বকে জানান দিল আমরা পারি। যে বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনতো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে, সেই বাংলাদেশ আজ তথ্যপ্রযুক্তিতে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্যাটেলাইট যুগে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ অমর বাণীটি লেখা রয়েছে। এই চিরন্তন সত্য নিয়েই কক্ষপথের দিকে ছুটছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। সত্যি আজ আমাদের জন্য গৌরবের দিন। আমরা সৌভাগ্যবান জাতির পিতাকে না দেখলেও শেখ হাসিনাকে দেখছি। আজ বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যে জয় বাংলা স্লোগানে বঙ্গবন্ধু পুরো জাতির আবেগ, অনুভূতিকে অক্সিজেনে রূপান্তরিত করে বাংলা জয় করেছিল। জয় বাংলা কখনই বিচ্ছিন্ন হয়নি বঙ্গবন্ধু ছাড়া। যে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু আমাদের সকলের অস্তিত্বের প্রতীক, একতার প্রতীক, আবেগ-অনুভূতির প্রতীক। সেই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলভাবে আজ মহাকাশও জয় করলো। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, চিরকাল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর বেঁচে থাক বঙ্গবন্ধু।

লেখক : শিক্ষক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

বাংলাদেশ সময়ঃ ১৬১৮ ঘণ্টা, ১২ মে, ২০১৮