ডাকসুর ভিপি নূর জিএস রাব্বানী এজিএস সাদ্দাম

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের মধ্যে ১৬টি হলে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা এবং ভোট স্থগিত হওয়ায় দুটি হলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যা থেকে হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়। রাত ৩টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

ভিপি পদে নূর পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট। জিএস পদে ছাত্রলীগের রাব্বানী পেয়েছেন ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের রাশেদ খান পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট। এজিএস পদে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজীন অর্নি, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস ই নোমান ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন।

এছাড়া সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন চিবল সাংমা, রকিবুল হাসান ঐতিহ্য, তানভীর হাসান সৈকত, তিলোত্তমা শিকদার, নিপু ইসলাম তন্বী, রাইসা নাসের, সাবরিনা ইতি, মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান রাকিব, নজরুল ইসলাম, ফরিদা পারভীন, মাহমুদুল হাসান, সাইফুল ইসলাম রাসেল ও রফিকুল ইসলাম সবুজ।

উপাচার্য বলেন, ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৫ হাজার ৭৫০ টি ভোট পড়েছে। যা শতকরা ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে, উপাচার্যের ফলাফল প্রকাশের পর তাকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’, বলে চিৎকার করতে থাকে।

এদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রথমে আমি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দিই। তারা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে। আমি এটির ভূয়সী প্রশংসা করি।’ এ নির্বাচনের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতেও গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি নতুন মাত্রায় এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া সবগুলো ছাত্র সংগঠনের প্যানেলই নির্বাচন বর্জন করেছে। দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয় চার জোট। এসময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই জোট ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য’ লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগ ও ফের ডাকসু নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করেন।