‘আমার ওয়াইফ প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে’

আমার ওয়াইফ প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। দেশে পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটা আইন হওয়া দরকার। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে এসে সভাপতির ভাষণে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ মন্তব্য করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলাম পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটা আইন হওয়া দরকার। বলেছিলাম, নারী নির্যাতনের ব্যাপারে আইন করছেন। পুরুষ নির্যাতনের ব্যাপারেও একটা আইন করেন। ওনি বলেছিলেন, আচ্ছা দেখা যাবে। কিন্তু এরপর ছয় বছর পার হয়ে গেছে।

দেশে অনেক পুরুষ নির্যাতিত হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি নিজের সংসারের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, আমি বিয়ে করেছি আজ ৫৪ বছর। খুব কম বয়সে বিয়ে করেছিলাম। আমি কতোটুকু কী করতে পারি এইটা ওনি (ওয়াইফ) ভালোই জানেন।

সাধারণত দেশে বিদেশি মেহমান আসলে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে, এইটাই নিয়ম। কিছুদিন আগে রোহিঙ্গা শিশুদের দেখতে দেশে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আসলো। আমি আমার ওয়াইফকে বললাম, আগামীকাল প্রিয়াঙ্কা বঙ্গভবনে আসবে। এই কথা শোনার পর আমার ওয়াইফ প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে বললো, প্রিয়াঙ্কা বঙ্গভবনে আসার কী দরকার? এরপর প্রিয়াঙ্কার বঙ্গভবনে আসা ক্যান্সেল হয়ে গেলো।

কৃত্রিম হতাশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এরপর শুনলাম প্রিয়াঙ্কা নাকি আমেরিকা গিয়ে তার চেয়ে দশ-বারো বছরের ছোট নিক নামের এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। যদি প্রিয়াঙ্কা তারচেয়ে দশ-বারো বছরের ছোট ছেলেকে বিয়ে করতে পারে, তাহলে আমি তো তার ত্রিশ বছরের বড়ই ছিলাম। সমস্যা তো ছিলো না। কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে তা হলো না।

এ সময় রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনে সমাবর্তনে উপস্থিত সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন। মুহূর্মুহূ করতালিতে সমাবর্তন প্রাঙ্গন মুখরিত হয়ে উঠে।

এর আগে বক্তব্যে দেশের রাজনীতিকে সবার ‘ভাউজ’-এর সাথে তুলনা করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সমাবর্তনে উপস্থিত গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনীতি হলো সবার ভাউজ। আমাদের গ্রামে একটা কথা আছে, গরীবের সুন্দরী বউ সবার ভাউজ। ‘ভাউজ’ মানে তো আপনারা বুঝবেন না। ‘ভাউজ’ মানে হচ্ছে ‘ভাবী’। অর্থাৎ গরীবের ঘরের সুন্দরী বউকে সবাই গিয়ে ভাবী ডাকে।

আমাদের দেশের রাজনীতির অবস্থা হচ্ছে এমন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে রাজনীতি করতে কারও কোনো যোগ্যতা লাগে না। আমি যদি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাই বা মেডিকেলে গিয়ে ডাক্তারি পড়াতে চাই তাহলে কি তারা আমাকে নিয়োগ দিবে? দিবে না। কিন্তু রাজনীতির মাঠ সবার জন্য উম্মুক্ত।

৬২ বছর চাকরি করা সচিব, পুলিশের বড় কর্তা আইজি, ডিআইজি, আর্মি অফিসার, সেনাপ্রধান, বিসিএস অফিসার সবাই চাকরি শেষ করে বলে আমি তো রাজনীতি করবো। দেখা গেলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সাহেবও অবসর নেয়ার পর বললেন আমি রাজনীতি করবো। ব্যবসায়ীদের কথা আর নাই বললাম। কিন্তু এমনটা হওয়া উচিৎ নয়।

রাজনীতি করতে হলে যোগ্য নেতা প্রয়োজন। আর তা তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসা তরুণ-যুবকদের দিয়েই সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় এ অবস্থা উত্তরণে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার ভিসি মো. আক্তারুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে উপযুক্ত ছাত্রনেতারা রাজনীতিতে আসুক, এটাই আমি চাই।

ভাষণের শুরুতেই সমাবর্তনে উপস্থিত বিশেষ অতিথি, ভিসি, প্রো-ভিসি, অধ্যাপক ও উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আসলে আমার মন খুলে কথা বলতে ইচ্ছা করে। আবার এখানে আসলে কথা বলতে ভয়ও লাগে। কারণ এখানে সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরেছেন, আর আমি এখানে চান্সই পাইনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এবারের সমাবর্তনে বিশেষ বক্তা ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

এবারের এই সমাবর্তন ছিলো ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ সমাবর্তন। এ বছর ২১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/বিএনকে