আসছে রোজা, বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

আসছে রোজা, বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম। রমজান মাসে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন ক্রেতাদের হাতের নাগালেই থাকে সেজন্য এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তারপরও কাজ হয়নি, বরং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে চলছে পণ্যের দাম। বিশেষ করে রমজানে বেশি চাহিদা থাকা পেঁয়াজের দাম ইতোমধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। ঢাকার বাজারগুলোয় প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫ টাকা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৩ লাখ মেট্রিক টন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এই চাহিদা ২৫ থেকে ২৬ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন কিছুটা কম বিধায় আমদানি করতে হয়। অথচ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়েছে। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ৯.৭ মেট্রিক টন।

আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ লাখ ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ৯.৮ মেট্রিক টন। অর্থাৎ মাত্র ৪ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তারপরও আমদানির জটিলতা দেখিয়েই দাম বাড়ানো হচ্ছে। শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, সরবরাহ কম থাকায় হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

এ ছাড়া বন্দর ও আমদানিকারকরা দাম বেশি রাখছেন। তাই খাতুনগঞ্জের আড়তদারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পাইকারি ও খুচরা বাজারে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, নতুন পেঁয়াজ মজুদ কঠিন। তাই বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় অনেক দিন ধরেই এর দাম কম ছিল। এখন সব পেঁয়াজ শুকিয়ে যাওয়ায় মজুদ করতে হচ্ছে। ফলে সামনে আরো দাম বাড়বে।

গত বছর রমজানে কেজি প্রতি ৬০ টাকা দরেও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, রমজানের সময়ই ব্যবসায়ীদের সব অজুহাত সৃষ্টি হয়। এই সময় আমদানি মূল্য বেশি ও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়াসহ নানা অজুহাতে আড়ত ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।