Home আন্তর্জাতিক কাতারকে হজের অনুমতি দেয়া হলো কেন

কাতারকে হজের অনুমতি দেয়া হলো কেন

- Advertisement -

কোনো ইলেকট্রনিক অনুমতিপত্র ছাড়াই কাতারি হাজীদের বিমানে ও সড়কপথে সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। হজ পালনে ইচ্ছুক কাতারি নাগরিকদের জন্য দুই দেশের মধ্যকার স্থলসীমান্ত পথ ‘সালওয়া পয়েন্ট’ খুলে দেয়া হয়েছে
কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও দেশটির নাগরিক ও সেখানে বসবাস করা অভিবাসী মুসলমানদের শর্তসাপেক্ষে হজ পালনের সুযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। কোনো ইলেকট্রনিক অনুমতিপত্র ছাড়াই কাতারি হাজীদের বিমানে ও সড়কপথে সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। হজ পালনে ইচ্ছুক কাতারি নাগরিকদের জন্য দুই দেশের মধ্যকার স্থলসীমান্ত পথ ‘সালওয়া পয়েন্ট’ খুলে দেয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের দুইটি বিমানবন্দরেও কাতারের হজযাত্রীদের স্বাগত জানানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কাতারের শেখ আবদুল্লাহ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন জসিম আল থানির বৈঠকের পর বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। শুধু তাই নয়, বরং নিজ খরচে অতিথি হিসেবে কাতারি হাজীদের নিয়ে আসার জন্য দোহায় বিশেষ বিমান পাঠাতে ফরমান জারি করেছেন তিনি।

- Advertisement -

এছাড়াও কাতারি হাজীরা ‘দাম্মাম’ এবং ‘এহসা’ বিমানবন্দরে পৌঁছার পর অতিথি হিসেবে তাদের মক্কা-মদিনায় সসম্মানে পৌঁছে দেয়ার জন্য সব বন্দোবস্ত করতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন বাদশাহ। এ বছর সব কাতারি হজযাত্রী সৌদি বাদশাহর অর্থায়নে হজ করবেন বলে জানানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সৌদি এয়ারলাইন্সকে নির্দেশ দিয়েছেন দোহা থেকে হজে আগ্রহীদের বহন করে সৌদি আরব আনার জন্য। সৌদি রাজতন্ত্রের হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বলে খবর সৌদি গেজেটের। তারা বলছে, হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় থেকে বৈধ হজ পারমিট থাকা কাতারের নাগরিক ও দেশটিতে থাকা যে কোনো অভিবাসী হজ পালন করতে পারবে।

হজকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সৌদি আরব ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে বলে গেল মাসে জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ করেছে কাতার। ওই অভিযোগে হজ গমনেচ্ছু কাতারিদের পথে সৌদি আরব বাধা সৃষ্টি করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল দেশটি। পরে কাতারের শেখ আবদুল্লাহর সুপারিশে হজযাত্রীদের ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট ছাড়াই হজ করার অনুমতি দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ।

এছাড়া কাতারের নাগরিকরা যে কোনো সময় ওমরা করতে পারবে বলে বিবৃতিতে জানানো হলেও এজন্য তাদের কাতার এয়ারলাইন্স ছাড়া অন্য যে কোনো কোম্পানির বিমানে আসার শর্ত দেয়া হয়।

সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া জানিয়েছে, জেদ্দায় বৈঠককালে শেখ আবদুল্লাহ এর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সৌদি ও কাতারের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ইতিহাসের অনেক গভীরে প্রোথিত। তিনি কাতারের হজযাত্রীদের সৌদিতে প্রবেশের ব্যাপারে মধ্যস্থতা করারও প্রস্তাব দেন। এ সময় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি ও কাতারের রাজপরিবার, নাগরিক এবং নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতার ব্যাপারে জোর দেয়ায় শেখ আবদুল্লাহকে ধন্যবাদ জানান। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণ দেখিয়ে গেল ৫ জুন কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব ও তার মিত্র বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসর। তারপর থেকে সালওয়া পয়েন্টে দুই দেশের সংযোগ পথটি বন্ধ করে রাখে সৌদি আরব।

সালওয়া সীমান্ত খুলে দেয়া সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি কাতারের এ মুখপাত্র। বলা হচ্ছে, তিনি কাতারের কোনো রাষ্ট্রীয় পদে নেই। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনটির বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি কাতারের গণমাধ্যম।

সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে আসাতে অনেকে মনে করছেন, সৌদি সরকার কাতার অবরোধের বিষয়টি আবার বিবেচনা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পদক্ষেপটি সৌদি আরবের কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নয়। পদক্ষেপটি পরিচ্ছন্ন নয়। বায়তুল্লাহর হাজীদের স্বাগত জানানো মাকসাদ নয়। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়; আবার উঠিয়ে নেয়া হয়েছে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। কাতারের শায়খ আবদুল্লাহ বিন আলীকে অভ্যর্থনা জানানোর পরিকল্পনার মাধ্যমে। আগাগোড়া পুরোটাই রাজনীতি। তারপরও কাতার সূচনা থেকেই পদক্ষেপটিকে স্বাগত জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শায়খ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আলে থানি বলেন, ‘বিষয়টি কাতারের সঙ্গে সুরাহা করা হয়নি। কাতার সৌদি আরবের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জানা সত্ত্বেও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। কেননা এ মুহূর্তে আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের জনগণ হজ আদায় করতে পারুক।’

আসলে সৌদি আরব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ছিল শুধুই দায়িত্বমুক্তি। কারণ হজযাত্রীদের বাধা প্রদান করলে সৌদি আরব শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিকভাবেও দায়ী হয়ে যাবে। এ ধরনের পবিত্র জায়গাগুলোকে নিয়ে রাজনীতি করলে খোদ সৌদি আরবেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি আরব এ সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সময়ের একদম শেষের দিকে। এতে মূলত একদিকে দায়িত্বমুক্তি, অন্যদিকে কাতারিদের হজ পালনে বাধা প্রদান এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের মতো। কেননা বাকি সময়টুকু কাতারিদের হজের কার্যক্রম ঠিক করার জন্য খুবই কম।

তাই দেখা যায়, অনুমতি দেয়ার দুই দিন পর পর্যন্ত কাউকে সালওয়া সীমান্ত-ক্রসিং দিয়ে সৌদি আরব ঢুকতে দেখা যায়নি। দুই-একজন যারা প্রবেশ করেছেন, তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা হজের জন্য প্রবেশ করেননি, বরং অন্য মাকসাদে এসেছেন। কেউ কেউ ঢুকেছেন উটের পালের সন্ধানে। হঠাৎ করে অবরোধ আরোপ করার কারণে অনেকে তাদের উটের পালকে সীমানা পার করাতে পারেননি। পরে আর তাদের সেগুলোকে কাতারে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ হয়নি। এখন হজের জন্য অবরোধ উঠে যাওয়ায় তাদের উটের খুঁজে সৌদি আরব প্রবেশ করাটা সহজ হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৫ জুন থেকে প্রতিবেশী সৌদির সঙ্গে কাতারের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে কাতার খাদ্য সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে। তবে ক্ষুদ্র দেশ কাতারকে নিজেদের পক্ষে আনার যে আশা সৌদি জোট করেছিল, তা বিফলে গেছে। কাতার অনমনীয় দৃঢ়তা দেখিয়ে আসছে। তবে সৌদি-কাতার দ্বন্দ্ব মুসলিম বিশ্বের জন্য কোনো মাপকাঠিতেই সুখকর নয়।

বাংলাদেশ সময়: ১১১৫ ঘণ্টা, ২২ আগস্ট ২০১৭,

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি

- Advertisement -