চাকরির লোভ দেখিয়ে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রীকে ধর্ষণ!

চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে অনার্স চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মহিউদ্দিন নামের এক পল্লী চিকিৎসকসহ দুইজনকে আটক করেছে র‌্যাব- ৮ ফরিদপুরের সদস্যরা। র‌্যাব ৮ এর আরেকটি টিম ১৪ বছরের মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগে তুষার নামে এক বাবাকে আটক করেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় র‌্যাবের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব- ৮ ফরিদপুর কোম্পানি অধিনায়ক মো. রইছ উদ্দিন জানান, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ৭ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন মধূখালী উপজেলার হাসিবুর রহমানকে। সপ্তাহখানেক আগে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হলে এই ছাত্রী বাবার বাড়ি চলে আসেন। কিন্তু বিয়েতে মায়ের মত না থাকায় বাবার বাড়িতে উঠতে না দিলে চাচি নাজমুন নাহারের কাছে আশ্রয় নেন মেয়েটি।

চাচি নাজমুন নাহার চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার বোনের ছেলে মহিউদ্দিনের হাতে তুলে দেয় গত ৯ নভেম্বর এবং বাবার বাড়ি কিংবা স্বামীর বাড়ি ফিরে না আসার পরামর্শ দেন। মহিউদ্দিন ঐদিনই মেয়েটিকে নিয়ে ঢাকা চলে যায়।

মহিউদ্দিন মেয়েটিকে আটকে রেখে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এতে মেয়েটি রাজি না হলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে মহিউদ্দিন।

গতকাল ১৩ নভেম্বর রাজেন্দ্র কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষা দেয়ার জন্য মহিউদ্দিন তাকে নিয়ে ফরিদপুর আসেন। খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা ফরিদপুর শহরের চুনাঘাটা এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। একই দিন শহরতলীর কানাইপুর থেকে মহিউদ্দিনকে এবং রাতে অপহরণের সহায়তাকারী চাচি নাজমুন নাহারকে আটক করে।

মহিউদ্দিনকে আটক করে তার দেহ তল্লাশী করলে ৪৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, আটক মহিউদ্দিন পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ও দুই সন্তানের জনক। একই সঙ্গে মহিউদ্দিন চিহ্নিত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী।

এই ঘটনায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় ওই ছাত্রীর স্বামী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা এবং র‌্যাব বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরো জানান, পৃথক এক ঘটনায় ফরিদপুর শহরে মেয়ে ও মায়ের অভিযোগ পেয়ে বিকৃত যৌনচারি মো. তুষার চৌধুরী নামের এক বাবাকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১ বছর যাবত আটক তুষার মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে তার ১৪ বছরের কিশোরী মেয়ের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিত। রাতে মেয়েকে নির্যাতনের চেষ্টা করতো। বিষয়টি তার স্ত্রী জেনে প্রতিবাদ করলে মেয়ে ও মা দুইজনকেই মারধর করতো তুষার।

সর্বশেষ গত ১৩ নভেম্বর রাতে তুষার মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে ঘুমন্ত মেয়েকে যৌন নির্যাতন করার চেষ্টা করে। পরে মেয়ে ও মা ফরিদপুর র‌্যাব কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করে। র‌্যাব প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত তুষারকে আটক করে।

এই ঘটনায় ওই কিশোরী নিজে বাদী হয়ে বাবার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। আটক তুষারকে কোতোয়ালি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৩ ঘণ্টা, ১৪  নভেম্বর  ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/কেএসপি

SHARE