রশিদকে যে পরিকল্পনা করে সামাল দিলেন মাহমুদউল্লাহরা…

তৃপ্তি পাওয়ার অনেক কিছু ছিল কাল। শেষ ওভারে গিয়ে যেভাবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে মোস্তাফিজ ম্যাচ জেতালেন, সেটা মাশরাফিকে অন্যরকম তৃপ্তিই দেবে। এমন জয়ের স্বস্তিটাও তো কম নয়। তবে বাংলাদেশের জন্য দলগতভাবে বড় একটা তৃপ্তি কাল রশিদ খানকে সামলানো। প্রায় অজেয় হয়ে ওঠা এই আফগান লেগ স্পিনারকে কাল বড় কিছু করতে দেননি মাহমুদউল্লাহ-ইমরুল কায়েস। ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহ মনে করিয়ে দিলেন, পরিকল্পনা করে খেলেছেন বলেই রশিদকে তারা ভালোভাবে সামাল দিতে পেরেছেন। এই আফগান লেগ স্পিনার অজেয় কেউ নন।

বল হাতে পেয়ে প্রথম ওভারেই কাল লিটন দাসকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রশিদ। ওই ওভারেই সাকিব আল হাসানের রান আউটে আবার এলোমেলো বাংলাদেশ। তখনো রশিদের বেশির ভাগ ওভারই বাকি, বাংলাদেশের ৫ উইকেট নেই। কিন্তু সেখান থেকে রশিদকে দারুণভাবে সামলালেন মাহমুদুল্লাহ-ইমরুল। শুরুর দিকে দু’জনের কেউ রশিদের সঙ্গে কোনো ঝুঁকি নেননি। শেষ ৩ ওভারে গিয়ে চড়াও হয়েছেন এই বোলারের ওপর। মাহমুদউল্লাহ স্লগ সুইপে দুইটি ছয় মেরেছেন, আর ইমরুল শেষ ওভারে মেরেছেন চার। সব মিলে রশিদের ৪৮ বল থেকে দুজন নিয়েছেন ৩৬ রান, পরিস্থিতি বিবেচনায় যেটা দুর্দান্তই বলতে হবে।

মাহমুদউল্লাহ আগের ম্যাচে রশিদকেই উইকেট দিয়ে এসেছিলেন। কাল সেই ভুল আর করতে চাননি, ‘রশিদ অসাধারণ একজন বোলার, কিন্তু ও অজেয় নয়। আমার মনে হয় আমি আগে ওকে ঠিকমতো খেলতে পারিনি। তবে আজ শুরু থেকেই দুজনের কথা হয়েছিল, আর যাই হোক ওকে উইকেট কিন্তু রশিদের বলে বার বার আউট হওয়া মানসিকভাবে কি একটু বাধা হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর কাছে? কালকের ম্যাচসেরা তা মানলেন না, ‘এটা নিয়ে ভাবার আসলে যথেষ্ট সময় ছিল না। চার দিনের মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে আমাদের। আমি অন্য কিছু চিন্তা না করে ওকে খেলতে চেয়েছি।’

তিন থেকে সাকিবকে পাঁচে, ইমরুলকে ছয়ে নিয়ে আসা নিয়েও আছে প্রশ্ন। মাহমুদউল্লাহ আভাস দিলেন, রশিদের কথা ভেবেই সেটা করা হয়েছিল, ‘এটা অবশ্যই একটা পরিকল্পনার অংশ। ইমরুল খুবই অভিজ্ঞ একজন, ওকে সেটার পরিকল্পনা করেই আনা হয়ে এসেছিল। কালকেই মাত্র উড়ে এসে এই গরমে সে যেভাবে খেলেছে, তার জন্য আমি খুবই খুশি।’

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/পিএস