১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান : ২১ আগস্ট হামলার রায় আজ

দীর্ঘ ১৪ বছর পর অবসান হতে চলেছে ভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার কার্যক্রম। ২০০৪ সালের ওই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার শিকার হন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের জনসভায় ওই হামলায় দলটির মহিলা সভানেত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। আহত হয় তিন শতাধিক। আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ওই ভয়াবহ হামলার দু’টি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

তৎকালীন সরকারের মদদে ওই হামলার ছক কষা হয়েছিল বলে সাক্ষী ও আসামিদের জবানবন্দিতে জানা যায়। আসামিদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর অন্যতম বলেও জানা গেছে।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘বুধবার (আগামীকাল) রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি ওই দিনই এই মামলার বিচারের প্রতীক্ষার অবসান হবে।’

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় হাওয়া ভবনে জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলার ষড়যন্ত্র হয়। চালানো হয় নারকীয় হামলা। এমন নারকীয় ঘটনা বিশ্বের কোথাও ঘটেনি। ক্ষমতায় থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা কেউ ভাবতেও পারে না। অথচ চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তারা এমন কাজ করেছেন বা কাজে সহযোগিতা করেছেন।

মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচার চলছে। বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করবেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১১টার দিকে রায় ঘোষণা হতে পারে।

ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা বলেন, ‘বুধবার রায় ঘোষণা করা হবে। আমাদের প্রত্যাশা এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে বর্বরতম হামলার বিচারিক কার্যক্রম এই রায়ের মাধ্যমে শেষ হতে যাচ্ছে। আসামিরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে বলে আমরা আশা করি।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন রায় ঘোষণার তারিখ ১০ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানা পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে। বিস্ফোরকদ্রব্য আইনেও আরেকটি মামলা হয়।

এ ঘটনায় সাবেক উপমন্ত্রী পিন্টু ও জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করে ২০০৮ সালের ৯ জুন চার্জশিট দেওয়া হয়। গ্রেনেডের উৎস এবং হামলার পরিকল্পনার পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটন না করেই তড়িঘড়ি করে চার্জশিট দেওয়া হয়। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবার তদন্ত হয়।

২০০৯ সালে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত এবং ২০১১ সালে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। নতুন তদন্তে প্রকাশ পায় হাওয়া ভবনে বসেই বিএনপির রাজনীতিকরা এই হামলার পরিকল্পনা করেন।

দুই মামলায় তারেক রহমান ও বাবর ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন আসামি করা হয়। মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২। বর্তমানে সংখ্যাটি ৪৯। মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল ইসলাম বিপুল ও আলী আহসান মুজাহিদের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৩১ জন কারাগারে, ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/কেএস