‘অনুশীলনে যাওয়ার ভাড়া ছিল না, রাস্তায় আইসক্রিম বিক্রি করতাম’

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক রিচার্লিসনের। ম্যাচের শেষ দশ মিনিটের জন্য রোবের্তো ফিরমিনোকে উঠিয়ে রিচার্লিসনকে নামিয়েছিলেন ব্রাজিল কোচ তিতে। কাল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নেমে ২১ বছর বয়সী সেই ছেলেটা রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিলেন। নয় নম্বর জার্সি পরে এল সালভাদরের বিপক্ষে দুটি গোল করেছেন, পাশাপাশি পুরো ম্যাচ খেলেছেন দুর্দান্ত। ২১ বছর বয়সী এই তরুণের জীবনের গল্পটাও কিন্তু তাক লাগানোর মতো।

ব্রাজিলের নোভা ভ্যানেসিয়ার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম রিচার্লিসনের। বাবা-চাচারা স্থানীয় ফুটবলে খেলতেন। তাদের দেখেই রিচার্লিসনের ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা। কিন্তু অনুশীলন একাডেমিতে যাওয়ার সুযোগ পেলেও বাসভাড়ার টাকা ছিল না তার হাতে। হতদরিদ্র পারিবারিক অবস্থার কারণে রাস্তায় মিষ্টান্ন দ্রব্য ও আইসক্রিমও বিক্রি করেছেন রিচার্লিসন। সেই ছেলেটাই আজ ‘তারকা’।

শুধু ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে জোড়া গোল পেয়েছেন বলে নয়, ক্লাব ফুটবলেও উজ্জল রিচার্লিসন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের হয়ে এবারের মৌসুমে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে করেছেন তিন গোল। এক সময়কার অাইসক্রিমওয়ালা রিচার্লিসনকে ‘ধনী’ই বানিয়ে দিয়েছে এভারটন। এবারের দলবদলে পাক্কা ৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে কিনেছে ইংলিশ ক্লাবটি। অনুপ্রেরণার মতো জীবন বটে!

রিচার্লিসনের মুখেই শুনুন তার জীবনের গল্প, ‘অনুশীলন করার জায়গা দূরে হওয়ায় চাচার বাসায় থেকেছি। অনুশীলনে যাওয়ার বাসভাড়া থাকত না। পারিবারিক অবস্থাও ভালো ছিল না। তাই রাস্তায় মিষ্টান্ন দ্রব্য আর আইসক্রিম ফেরি করেছি পরিবারকে সাহায্য করতে। এসব করতেই হতো। কারণ পরিবারের জন্য সবাই যে কোনো কিছুই করতে পারে।’

স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিচার্লিসন বলেন, ‘কতগুলো ক্লাব আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তা গুনে বলতে পারব না। কারণ আমার হাতে অত আঙুল নেই। একপর্যায়ে ফুটবল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। ট্রায়ালে না টিকলে বাসায় ফিরতে পারতাম না। সেখান থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে ছিল আমার বাসা। তখন হাল ছেড়ে দিলে আজ এখানে আসতে পারতাম না।’

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/কেএস