গায়ে লাল-সবুজের জার্সি: তবুও কাজ করতে হচ্ছে হোটেলে

‘বল কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আমি স্ট্রাইক বোলার, আমাকে নতুন বল দিয়ে বোলিং করতে হয়। কিন্তু একটা বল কিনতে অন্তত পাঁচশ টাকা লাগে। এই টাকা আমার কাছে নাই। সেই কারণেই হোটেলে কাজ করতে হয়, অর্থের জন্য। মাশরাফি, সাকিবরা যেমন (বিসিবির) বেতনভুক্ত আমরা তেমন বেতনভুক্ত না। বেতনভুক্ত না হওয়াতে আমাদের জন্য সমস্যা। এখন দেখা গেছে, অর্থের অভাবে পরিস্থিতির শিকার হয়ে ভালো লাগার ক্রিকেটকে ছেড়ে দিতে হবে’- বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী দলের ক্রিকেটার রাসেল শিকদার বলছিলেন কথাগুলো।

রাসেল জানান, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শারীরীক প্রতিবন্ধী দলে ডাক পান তিনি। তারপর বাংলাদেশের হয়ে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ডে খেলেছেন। শারীরীক প্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাসেল। জানালেন, বেঙ্গালুরুতে সুপার ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে একবার বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিয়েছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় সেই ছেলেটাকে এখনো হোটেল বয়ের কাজ করে জীবনযাপন করতে হচ্ছে!

হোক না প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের সদস্য, কিন্তু তার গায়েও তো বাংলাদেশের সেই লাল-সবুজের জার্সিই থাকে। বাংলাদেশকে জেতানোর জন্যই মাঠে লড়েন তিনি। তারপরও বল কেনার অর্থ জোগাড় করতে যখন হোটেলে কাজ করতে যেতে হয় তখন নিশ্চয় দুঃখ কম হয় না রাসেলের।

রাসেল জানান, জন্মগত ভাবে নয়, বয়স যখন এক তখন থেকে প্রতিবন্ধী তিনি। কিন্তু ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন ছোট থেকেই। অনেকে বলেছেন, প্রতিবন্ধী হয়ে ক্রিকেট খেলে কী লাভ? রাসেল তাদের বলেছেন, ‘ভালোবাসা থেকেই ক্রিকেট খেলি। দেখি কতদূর যাওয়া যায়।’ ক্রিকেটের প্রতি এই ভালোবাসার কারণে পড়ালেখাটাও বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারেননি।

যখন মাধ্যমিকের জন্য টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছিল তখনই অনূর্ধ্ব-১৮ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। মাধ্যমিক পরীক্ষা না দিয়ে ক্রিকেট চালিয়ে গেছেন। সেই যে ছেড়েছেন তারপর পড়ালেখা আর ধরতে পারেননি। ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছুই ছেড়েছেন রাসেল, কিন্তু ক্রিকেট থেকে রাসেল পেলেন কী?

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/কেএস