ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রথম চেষ্টাতেই জুয়ায় জিতলেন জহুরুল

শেষ ২ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪ রান। একটা বাউন্ডারির ব্যাপার। বোলার কার্লোস ব্র্যাথওয়েট তখন দারুণ বোলিং করছিলেন। আগের বলেই দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে পরাস্ত করেছেন জহুরুল ইসলাম অমিকে। তাই কিছুটা হলেও চাপে ঢাকা ডায়ানামাইটস। তখন রীতিমত নিজের উপর জুয়া ধরেই ভাবলেন এবারও হয়তো ইয়র্কার করার চেষ্টাই করবেন ব্রেথওয়েট। ক্যারিবিয়ান তারকা তাই করলেন। আর জহুরুল করলেন রিভার্স স্কুপ। এর আগে ম্যাচে এমন শট কখনোই খেলেননি এ ক্রিকেটার। জুয়ায় জিতলেন। পেয়ে যান চার। দল পায় ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর এক জয়।

দলকে এমন নাটকীয় জয় এনে দেওয়ার পর নিজেকে জাহির না করে উল্টো দারুণ বিনয়ী জহুরুল, ‘প্রথম দুটি বল আমি স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মারতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে সাধারণত একটু দ্রুতগতির এবং ইয়র্কারগুলো প্রায় নিখুঁত। চার মারার চিন্তা আমার ভুল ছিল। যদি এক রানের চিন্তা করতাম, তাহলে ব্যাটে লাগত। ম্যাচটায় আমিই দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছিলাম। পরে চিন্তা করেছি, যেহেতু দুটি বলে ইয়র্কার করে সফল হয়েছে, আবারও ইয়র্কার করবে। আমি তাই গ্যাম্বলিংয়ের মত চিন্তা করলাম যে থার্ড ম্যান যেহেতু ওপরে, সেদিক দিয়ে উল্টো স্কুপ করব। আগে এটা কোনোদিন খেলিনি ম্যাচে। অনুশীলনে চেষ্টা করি। ম্যাচে এটিই প্রথম।’

মূলত ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এমন শট খেলেন জহুরুল। ব্র্যাথওয়েট আগের বলগুলো ইয়র্কার করায় ঠিক ভাবে খেলতে পারছিলেন না জহুরুল। তাই বাধ্য হয়েই ভিন্ন কিছু করার চিন্তা করেন এ ব্যাটসম্যান, ‘ব্র্যাথওয়েট যে ইয়র্কারগুলো মারছিল, আমি যদি মিড অফ বা মিড অনে খেলার চেষ্টা করতাম, আমার জন্য খুবই কঠিন এখান থেকে চার বের করা। তো আলাদা কিছু করতেই হতো আমাকে। এটা চেষ্টা করা ছাড়া আমার মাথায় অন্য কিছু আসেনি। সফল হয়েছি দেখে ভালো লাগছে।’

জহুরুলের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পায় ঢাকা। এ ম্যাচে জীবনের প্রথমবারের মতো রিভার্স স্কুপ খেলে সফল জহুরুল। আর এমন সময় খেলেছিলেন যখন দল ছিল হার-জিতের মাঝখানে। তবে কথায় আছে সাফল্য সবসময়ই সাহসীদের পক্ষেই থাকে। তা আরও একবার প্রমাণ করলেন ঢাকা ডায়ানামাইটসের এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। ২০১৩ সালে যিনি সর্বশেষ খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে।

বাংলাদেশ সময়ঃ ০০১০ ঘণ্টা,১৫ নভেম্বর, ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি