নতুন করে আরো দুই লাখ রোহিঙ্গা আসছে

নতুন করে আরো দুই লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে। এমন তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও মানবিক সাহায্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)।

সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশে এখন ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। নতুন করে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও দুই লাখ রোহিঙ্গা আগমণের ফলে মোট রোহিঙ্গা সংখ্যা ১০লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তাদের মতে, রোহিঙ্গা আশ্রিত কক্সবাজার এলাকার মানবিক সংকট এখন কল্পনাতীত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

আইআরসি বলছে, তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কনট্রে লা ফেইমের (এসিএফ) নেতৃত্বে সমপ্রতি মানবিক সংস্থাগুলো কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ওপর জরিপ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ ওই জনগোষ্ঠির পুষ্টি নিয়েই মূলত জরিপটি হয়। জরিপে রোহিঙ্গা শিশুদের অপুষ্টির মাত্রা চরমে থাকা এবং তাদের অপুষ্টি যে সার্বিকভাবে জনস্বাস্থের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই তথ্য ওঠে এসেছে। রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়েছে। গত কয়েক দিনে যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন তারা বলছেন, সহিংসতার মাত্রা কমলেও রাখাইনে থাকার মত অবস্থা নেই। সেখানে চরম খাদ্য ও অর্থ সংকট বিরাজ করছে। তাছাড়া নির্যাতনের ভয়ও তাদের তাড়া করছে। তাদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

নতুন যারা এসেছেন তারা বলছেন, তারা তাদের নিজেদের এবং প্রতিবেশীদের বাড়িঘর পুড়তে দেখেছেন। অনেককে চোখের সামনে হত্যা করা হয়েছে। অনেক নারী ধর্ষিত হয়েছেন, মারাও গেছেন। এ অবস্থায় তাদের রাখাইন ছেড়ে আসা ছাড়া ভিন্ন কোন পথ নেই।

অক্টোবরে বিধি নিষেধ কিছুটা শিথিল করতে রাজি হয় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তারা ওয়াল্ড ফুড প্রোগ্রামকে সেখানে খাবার দিতে যেতে দিয়েছে। কিন্তু সমালোচনা রয়েছে তারা যেখানে গেছে সেখান থেকে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের অবস্থান অনেক দূরে। ফলে তাদের অনেকের কাছেই খাবার পৌঁছানো যায়নি।

রাখাইনে আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রস বলছে, এখনও যে সব রোহিঙ্গা রাখাইনে রয়েছেন তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর প্রায় অসম্ভব। রেডক্রসের মিয়ানমার ডেলিগেশনের প্রধান ফাবরিজ্জিও কারবনির মতে, রাখাইনের ভূ-প্রকৃতিই এর জন্য প্রধান অন্তরায়। সেখানে উঁচু পাহাড় রয়েছে। আছে নদী, জলাভূমি। আর মানুষগুলো (অর্থাত্ ভয়ার্ত রোহিঙ্গারা) রয়েছেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এদের মধ্যে এতিম রোহিঙ্গা শিশু সাড়ে ৩৬ হাজার।

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, উখিয়া-টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে ‘রোহিঙ্গা এতিম শিশু সুরক্ষা প্রকল্পে’ জরিপের প্রাথমিক কাজ শেষ করেছে সমাজ সেবা অধিদপ্তর। জরিপে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৭৩জন এতিম শিশু শনাক্ত করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ জরিপের প্রাথমিক কাজ ১০ নভেম্বর শেষ হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আল আমিন জামিলী। তিনি বলেন, জরিপ প্রাথমিক কাজ শেষ হলেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় জরিপ চলমান থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩২৩ ঘণ্টা, ১৪ নভেম্বর, ২০১৭,
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/ডিএ

SHARE