আয়ু বাড়াবে যেসব খাবার…

একজন ব্যক্তির গড় আয়ু ৬০ বছর ধরা হয়। আয়ু বা বেঁচে থাকার বয়স নির্ভর করে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের ওপরও। স্বাস্থ্যকর খাবার  মানুষের সার্বিক সুস্থতা তো নিশ্চিত করেই, সঙ্গে আয়ু ধরে রাখে ১০০ বছর পর্যন্ত—

মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, যা উচ্চরক্তচাপ কমায়। এর মধ্যকার ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখে। কোষের বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক একটি উপাদান এটি।

স্যালমন: স্যালমন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। এ অ্যাসিড ইরেগুলার হার্টবিট, রক্তচাপ ও ধমনিতে ফ্যাট জমতে দেয় না। ওমেগা-৩ উত্তম ব্রেইন ফুড হিসেবেও পরিচিত, যা ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে।

টক দই: টক দইয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া, যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষায় প্রহরীর কাজ করে। টক দই খাবার ভালোভাবে হজম করে এবং খাবার থেকে পুষ্টি শুষে নিতে শরীরকে সাহায্য করে। এছাড়া এটি এমন একটি খাবার, যা দেহের সার্বিক দেখাশোনা করে। পেটের যেকোনো সমস্যা ও ইউরিনারি ইনফেকশনের সহজ সমাধান দই।

তুলসী ও পুদিনা: তুলসী ও পুদিনায় রয়েছে লিউটিওলিন নামক একটি উপাদান, যা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।

গ্রিন টি: গ্রিন টির অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি হূদস্বাস্থ্য ভালো রাখে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টিতে যে ফ্লেভোনয়েড থাকে, তা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

অলিভ অয়েল: দেখে মনে না হলেও অলিভ অয়েল খাদ্যের পাওয়ার হাউজ বলে বিবেচিত। রান্নায় ও সালাদে অলিভ অয়েল ব্যবহার করে আপনিও পারেন আপনার রেসিপিকে আরো স্বাস্থ্যকর করে তুলতে। এটি অন্যান্য স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মতো ধমনি সংকীর্ণ করে না। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এ তেল ফ্রি রেডিক্যালসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। অলিভ অয়েল ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

বাদাম: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা স্ন্যাকস হিসেবে রোজ একমুঠ বাদাম খান, তারা অন্যদের চেয়ে বেশিদিন বাঁচেন। শুধু তা-ই নয়, তারা তুলনামূলক অনেক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জীবনযাপন করতে পারেন। পাশাপাশি ক্যান্সার, হূদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় পড়ার আশঙ্কাও থাকে কম।

গাঢ় রঙের ফল ও শাকসবজি: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অনেক বেশি ফলমূল ও সবজি খান, তারা বাঁচেন বেশিদিন। কারণ এসব খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ। অন্যদিকে গাঢ় রঙের ফল ও শাকসবজিতে যে প্রাকৃতিক রঙ থাকে, তা ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান। বিশেষত গাঢ় সবুজ এবং হলুদ রঙের ফল ও সবজিতে এ গুণাগুণ থাকে অনেক বেশি।

কফি: গ্রিন টির মতো কফিতেও রয়েছে ফ্লেভোনয়েড, যা হূদরোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। তাছাড়া ফ্রি রেডিক্যালসের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতেও সহায়তা করে কফি। কফির মধ্যকার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে সহায়তা করে।