বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

সরকারি কর্মসূচিতে ঘন ঘন পরিবর্তন, মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সংকটের মতো বেশ কয়েকটি কারণে জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে সাফল্য আসছে না।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণেই মোট প্রজনন হার কমিয়ে আনার যে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল তা এখনো অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনই প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস।

নিরাপদ ও সেচ্ছাসেবী পরিবার পরিকল্পনার লক্ষ্য নিয়ে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘পরিবার পরিকল্পনা হচ্ছে মানবাধিকার’।

৯০ এর দশকে জন্ম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছিল। তখন জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর ৩০ ভাগই স্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহার করতো।

কিন্তু এ সাফল্য এখন অনেকটাই ম্লান হতে চলেছে। গেল ৭ বছর ধরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ ভাগে এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে আর নারী প্রতি সন্তান জন্মের হার ২ দশমিক ৩।

ফ্যামিলি প্ল্যানিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ এফ এম মতিউর রহমান জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আছেন তাদের স্থবিরতার কারণেই এ অবস্থা হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোকে সেবা দেবে কিন্তু সত্যি কথাটা হল তারা বাড়ি বাড়ি যায়না। তিনি মনে করেন এ বিষয়ে তত্বাবধানের অভাব রয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, পরিকল্পিত বিশেষ কিছু কর্মসূচি চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিতে লাগাম টেনে ধরেছে। অথচ বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রতিবছর ৩৪ লাখ করে বাড়ছে।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নূর-উন নবী জানান, কম শিক্ষিত মানুষ বা দরিদ্র মানুষ জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ। অনুন্নত, দরিদ্র বা বস্তি এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি।

তিনি জানান, আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে সেবাটা দেয়া হত তা আর এখন নেই এটাও অন্যতম একটি কারণ।

বাংলাদেশে এখন কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি, যা ৩০ বছরের মতো থাকে। দক্ষ জনক্তিতে পরিণত করার মাধ্যমে এই জনসংখ্যাতাত্বিক সুবিধা কাজে লাগানোর তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ সময়ঃ ১০৪৫ ঘণ্টা, ১১ জুলাই, ২০১৮
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/বিএনকে