বোল্টের হ্যাটট্রিকে ধরাশায়ী পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক প্রকার অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ফরমেট বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেল তাদের পারফরম্যান্সও। ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরতেই ফের নাজেহাল অবস্থা পাকিস্তানের। এশিয়া কাপের মতো বিবর্ণরূপে হাজির হয়েছেন সরফরাজরা। পরিণাম- সবশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হারল পাকিস্তান।

অস্ট্রেলিয়াকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেকে এনে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান। সফরে আসা নিউজিল্যান্ডকেও একই পরিণতি দিয়েছে স্বাগতিক শিবির। টি-টোয়েন্টির বদলাটা পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কিউইরা। বুধবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি নিউজিল্যান্ড। সিরিজে কিউইরা এগিয়ে গেছে ১-০ ব্যবধানে।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সরফরাজদের ৪৭ রানে হারিয়েছে কিউইরা। এনিয়ে টানা ১২ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালো নিউজিল্যান্ড। সফরকারীদের ছুড়ে দেওয়া ২৬৬ রানের জবাব দিতে নেমে ট্রেন্ট বোল্টের হ্যাটট্রিকে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ১৬ বল বাকি থাকতেই ২১৯ রানে গুটিয়ে যায় তারা। শুক্রবার আবুধাবিতেই দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দল দুটি।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ছিল সাদামাটা। ৩৬ রানে তাদের হারাতে হয়েছে দুই উইকেট। দলীয় ৭৮ রানে পতন হয় তৃতীয় উইকেটের। ২৯ রানে ফিরেছেন কলিন মুনরো। দুই রান কমে বিদায় নিয়েছেন সফরকারী অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেন রস টেলর এবং টম লাথাম।

এ যুগলের ১৩০ রানের জুটিই নিউজিল্যান্ডের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দিয়েছে। ১১২ বলে পাঁচ চারে ৮০ রানে ফিরেছেন টেলর। সমান চার মেরেছেন লাথামও। ৬৪ বলে ৬৮ রানে আউট হয়েছেন তিনি। শেষ দিকে টিম সাউদি (২০) ও ইশ শোধির (২৪) সৌজন্যে দলীয় সংগ্রহ আড়াই শ ছাড়ায় নিউজিল্যান্ড।

কিউইদের পতন হওয়া নয় উইকেটের চারটি করে নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি এবং সাদাব খান। টেলরের উইকেটটা পেয়েছেন ইমাদ ওয়াসিম। ভেঙেছেন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা চতুর্থ উইকেটের জুটি। পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসেও ওয়াসিম হাজির হলেন ত্রাণকর্তারূপে। আট নাম্বারে ব্যাট করতে এসে দ্বিতীয় দলীয় সর্বোচ্চ ৫০ রান করেছেন তিনি।

৭২ বলের ইনিংসে কোনো বাউন্ডারি না থাকলেও দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ওয়াসিম। ৬৯ বলে সাত চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন অধিনায়ক সরফরাজ। ওপেনার ইমাম-উল-হকের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৪ রান। শোয়েব মালিক করেছেন ৩০ রান। শোয়েবের আগে ব্যাট করতে আসা তিন ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন এক রান!

ফখর জামান, বাবর আজম এবং মোহাম্মদ হাফিজকে সাজঘরে পাঠিয়ে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই হ্যাটট্রিক তুলে নেন বোল্ট। পাকিস্তানের টপ অর্ডারে ধস নামিয়ে অবধারিতভাবেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন বজ্রগতির এই পেসার। বোল্টের মতো তিন উইকেট নিয়েছেন ফার্গুসনও। এ ছাড়া গ্রান্ডহোম দুটি শিকার করেন। বৃথা হাত ঘোরাননি টিম সাউদি, ইশ সোধিও।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/পিএস