নৈতিক পরাজয়ে নতুন চাপে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যেই অধিকাংশ প্রদেশে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফলে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভ এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। কিন্তু সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে দলটি।

ট্রাম্পের এই পরাজয়কে নৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এবার সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা করতে হবে বলেও মনে করেন মার্কিন পণ্ডিতরা।

মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী ‘প্রতিনিধি পরিষদে’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সিনেটে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে রিপাবলিকানরা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্যানুযায়ী, কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৫১ টি আসন পেয়েছে সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে ৪৫টি আসন পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ট্রাম্প সরকারের উপর এক ধরণের প্রভাব বিস্তার করতে পারবে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর শেষ তথ্যানুযায়ী, ৪৩৫টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২২২টি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। পক্ষান্তরে ১৯৯টি আসন পেয়েছে রিপাবলিকানরা।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই অভিবাসী থেকে শুরু করে বিচারপতি নিয়োগ ও বৈশ্বিক নীতিতে প্রতিনিয়তই সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হয়েছে ট্রাম্প সরকার।

দেশটির জনগণও ট্রাম্পের নীতিতে খুশি নন বলে দাবি করেছে গণমাধ্যম। আপাতত ভোটের ফলাফলও সেটাই বলছে। ক্ষমতার প্রথম দুই বছরে একরোখা ও একক সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে ক্ষমতা হারানোয় এবার সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেতে হবে বলেও দাবি করছে গণমাধ্যম।

নিম্নকক্ষের অনুমোদন বা সম্মতি নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ট্রাম্প সরকারকে। এক্ষেত্রে, বিরোধীদল অধ্যুষিত নিম্নকক্ষের চাপে ট্রাম্পের ক্ষমতার পরবর্তী দুই বছর যে খুব একটা মসৃণ হবে না সেটা অনুমেয়। যদিও উচ্চকক্ষ ট্রাম্পের সমর্থনেই থাকবে।

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/পিএস