ব্রণ ও ব্রণজনিত সমস্যায় কি করবেন

ব্রণ ও ব্রণজনিত সমস্যায় কি করবেন

টিনএজ বয়স পার করেছেন অথচ ব্রণের সমস্যায় ভোগেনি- খুব কমই পাওয়া যাবে এমন মানুষ। কৈশোর ও তরুণ ছেলেমেয়ের বেশির ভাগের ত্বকে দেখা দেয় ব্রণ। এর ফলে অনেকেরই ত্বকে হয় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত। তবে সময়মতো চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ব্রণ পুরোপুরি দূর করা যায়। অবশ্য কখনো কখনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না।

যে কারণে ব্রণ হয়

ব্রণ মূলত টিনএজ বয়সের ত্বকের সাধারণ সমস্যা। শরীরে হরমোন মূলত এজন্য দায়ী। হরমোন পরিবর্তনে ব্রণ বা অ্যাকনের সমস্যা হয়। ছেলেদের ত্বকে ব্রণের তীব্রতা একটু বেশি হয়। কারও কারও টিনএজ বয়স পেরিয়ে গেলেও এ সমস্যা অনেক দিন থেকে যায়।

কৈশোরে পুরুষালি হরমোনের প্রভাবে ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি বেশি করে সেবাম জাতীয় তেল নিঃসরণ করে। এ তেল কোনো কারণে গ্রন্থিতে জমতে শুরু করলে একসময় গ্রন্থি ফেটে যায়। ফলে তেল আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ব্যাকটেরিয়া তেল ভেঙে টিস্যুতে ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে। এ অ্যাসিড ত্বকের ভেতর সৃষ্টি করে প্রদাহ। এ প্রদাহ থেকেই চামড়ার মধ্যে ব্রণ ও অ্যাকনের জন্ম হয়।

এছাড়া বাইরের ধুলোবালি ত্বকে জমে লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্রণের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার ও ভাজাপোড়া খেলেও ব্রণের সমস্যা হয়। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি কম পান, স্ট্রেস, কম ঘুম ও কোষ্ঠকাঠিন্যজনিত কারণে ব্রণ হতে পারে। মানহীন ও ক্ষতিকারক প্রসাধনী ব্যবহারের কারণেও ব্রণ হতে পারে। ত্বকের সংক্রমণ ও অতিরিক্ত খুশকি থেকেও ব্রণ হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে ব্রণ দেখা দিতে পারে।

ব্রণ কমাতে সতর্কতা

কোনোভাবেই ব্রণে হাত দেওয়া যাবে না। খোঁচাখুঁচির কারণে ব্রন থেকে ত্বকের সংক্রমণ বাড়ে। বেশির ভাগ সময় ব্রণ এমনি সেরে যায়। ব্রণের ওপর যেন তেল বা তেল জাতীয় কোনো প্রসাধনী না লাগে, খেয়াল রাখতে হবে। সবসময় মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে সকালে ও বাইরে থেকে ফিরে ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে। ব্রণ খুব বেশি হলে বা গভীর ক্ষত তৈরির আশঙ্কা থাকলে ত্বক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ব্রণ কমাতে ওষুধ ও মেডিকেটেড ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। ব্রণ হয়েছে- এমন ত্বক শেভ করা ভালো। এতে সেপটিক হয়, সংক্রমণও বাড়ে।

ব্রণের প্রতিকার

তরুণরা ত্বকের যত্নে ভীষণ উদাসীন। এটি ঠিক নয়। প্রতিদিন দুবেলা নিয়ম করে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান ও ফলমূল, শাকসবজি খেতে হবে। দিনে ৫-৬ বার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে তৈলাক্ততা কমবে, ধুলো-ময়লা জমবে না। ভাজাপোড়া খাবার কম খেতে হবে। রাত জাগা, চা-কপি বেশি পান করা, রোদে বেরোলে ত্বকের ধরন বুঝে সানস্ক্রিন বা সানব্লক ব্যবহার করুন। চুলে এমনভাবে তেল দেওয়া যাবে না, যাতে মুখ তেলতেলে হয়। পরিমাণমতো ঘুমাতে হবে। অনিদ্রায় ব্রণের প্রবণতা বাড়ে, অতিরিক্ত ঘুমের কারণেও ব্রণ হয়। যদি ফাংগাল অ্যাকনে হয়, তবে যেসব খাবারে ইস্ট আছে সেসব খাবার, যেমন- বার্গার, পিজ্জা, পেটিস খাওয়া কিছুদিনের জন্য ছেড়ে দিতে হবে।

ব্রণের চিকিৎসা

ব্রণের নানা ধরনের চিকিৎসা রয়েছে। কমিডন ব্রণ হলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনজিং ও আলট্রাসনিক ফেসিয়ালের মাধ্যমে মুখের ভেতরের ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইট হেডস বের করা যায়। সংক্রমিত বা পস্টিউলার ব্রণ হলে ত্বকের ধরন বুঝে অ্যান্টিবায়োটিক কেমিক্যাল পিলিং এজেন্ট ব্যবহার করতে হয়। যাদের ত্বকে দাগ বা গর্ত হয়েছে, তাদের জন্য চিকিৎসা হচ্ছে লেজার বা মাইক্রোনেডলিং ট্রিটমেন্ট। লেজার ট্রিটমেন্ট ত্বক বিশেষজ্ঞর পরামর্শে করতে হবে। ত্বকের ধরন বুঝে দুঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। ব্রণ দেখা দিলে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন। এতে ব্রণ বাড়ে। সঠিক চিকিৎসা ও যত্নে ব্রণ দূর করা সম্ভব।