নামাজে কখন সাহু সেজদা দিবেন

ঈমানের পর নামাজ ইসলামের প্রথম ও প্রধান ইবাদত। আল্লাহ ও তার রাসুলের ভালোবাসা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যমও এটি। কেননা নামাজকেই মুমিনের মেরাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

এ নামাজে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে শয়তানের প্ররোচনায় ভুল হয়ে যায় তবে তাতে সাহু সেজদা দিতে হয়। নতুবা নামাজ বাদ হয়ে যাবে।

নফল, সুন্নাত, ওয়াজিব কিংবা ফরজ যে কোনো নামাজে ভুল হলেই শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে পর পর দু’টি সেজদা আদায় করতে হয়।

সাহু সেজদা দেওয়ার করণ

শয়তান মানুষের নামাজ নষ্ট করার জন্য সবসময় প্রস্তুত। নামাজের যে কোনো ভুল থেকে বাঁচতে আল্লাহ তাআলা সাহু সেজদার এ বিধান দান করেছেন। যেন শয়তানের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় এবং অপূর্ণ নামাজ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আর সাহু সেজদার মাধ্যমে নামাজ পরিপূর্ণ হলে আল্লাহ তাআলাও খুশি হয়ে যান।

ভুল হওয়া মানুষের স্বভাবগত বিষয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেও নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। তাই যখনই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে তখনই তিনি বলতেন-

‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও আমিও তেমন ভুলে যাই। সুতরাং যদি আমি ভুলে যাই, তাহলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

শয়তানের প্ররোচনা ও প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো সাহু সেজদা। নামাজে ভুল হয়ে গেলে তা সাহু সেজদার মাধ্যমে বিশুদ্ধ করে নেয়া শয়তানের গ্রহণ করা চ্যালেঞ্জের প্রতি চরম আঘাত।

কারণ শয়তান আল্লাহর কাছে মানুষকে ভুলিয়ে ইসলাম ও ইবাদত থেকে দূরে সরানোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিল। আর শয়তানের প্ররোচনায় বান্দা নামাজে ভুল করে সাহু সেজদা দিলে আল্লাহ তাআলা বান্দার নামাজকে কবুল করে নেবেন।

সুতরাং কারো নামাজে ভুল হয়ে গেলে শেষ বৈঠকে তাশহ্‌হুদের পর ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে এক সঙ্গে দুটি সেজদা আদায়ের মাধ্যমে সাহু সেজদার বিধান পালন করা আবশ্যক। এতে একদিকে যেমন নামাজ বিশুদ্ধ হয়ে যাবে অন্যদিকে শয়তান তার প্ররোচনায় ব্যর্থ হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ভুলমুক্ত নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। শয়তানের প্ররোচনায় নামাজে ভুল হয়ে গেলে তাতে সাহু সেজদা আদায় করে শয়তানের ঘৃন্য প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ার তাওফিক দান করুন। নামাজে মনোযোগী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।