এবার দিল্লির রাস্তায় আকাশ থেকে পড়ল তেল!

Delhi

একের পর এক সমস্যায় জর্জরিত দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্র ভারতের রাজধানী দিল্লি। রাজধানীতে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এরই মধ্যে নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দিল্লির বায়ু দূষণ। গত কয়েক বছরে দূষণের মাত্রা লাগামছাড়া হয়েছে।

প্রশাসন এবার দিল্লিতে আতশবাজি পোড়ানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু সেসব কানে তোলেননি রাজধানীর বাসিন্দারা।দীপাবলি রাত থেকেই দিল্লির বাতাস আরও বেশি পরিমাণে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লিতে দূষণের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যমুনা নদীর জলস্তরে টক্সিক ফোম জমা হয়েছে। গোটা শহর ঢেকেছে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে। কিন্তু তাতেও দিল্লিবাসীর চেতনা ফেরেনি।

এবার দিল্লির রাস্তায় তেলজাতীয় কিছু একটা পদার্থ জড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। যা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে।

রবিবার বিকেল থেকেই দিল্লির বেশ কিছু জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। ভারী বর্ষণ না হলেও ঘণ্টাখানেক ঝিরঝির ধারায় নাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পর থেকে দিল্লির রাস্তা অদ্ভুত রকম পিচ্ছিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাইক বা স্কুটিতে ব্রেক কষলেই আরোহী ছিটকে পড়ছিলেন রাস্তার উপর। ভয়ে, আতঙ্কে লোকজন দমকল বিভাগে ফোন করা শুরু করেন। বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে দমকলে ফোন যায়। এরপরই দমকল বিভাগের কর্মীরা রাস্তায় নামেন। পরীক্ষা করে দেখেন, সত্যিই দিল্লির রাস্তায় তেলজাতীয় কিছু একটা পিচ্ছিল পদার্থ পড়ে রয়েছে। অনেকেই মনে করতে শুরু করেন, বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে পড়েছে সেই তেল।

দমকলকর্মীরা এরপরই খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লিতে তেমনভাবে বাতাস বইছে না। আবহাওয়া ছিল গুমোট। ফলে দূষণের মাত্রা বেড়ে ছিল। দীপাবলিতে আতশবাজি পোড়ানোয় সেই দূষণের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। বাতাসের ধূলিকণা এবং রাস্তায় চলতি গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে পিচ্ছিল পদার্থ সৃষ্টি করেছিল। সেই পদার্থ অনেকটা তেলের মতোই। যার ফলে রাস্তার অবস্থা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

দমকল বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোরে বৃষ্টি হলে হয়তো এমন অবস্থা হত না। তখন ওই পিচ্ছিল পদার্থ ধুঁয়ে নর্দমায় চলে যেত। কিন্তু বিকেল চারটে থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেই পদার্থ রাস্তার উপরেই জমে ছিল। অনেকে অবশ্য ভেবেছিলেন, রাস্তার ওপর মোবিল জাতীয় কোনো পদার্থ পড়ে রয়েছে। আর তার জন্যই দুই চাকা চালানো বিপদজনক হয়ে উঠেছিল দিল্লির রাস্তায়। তবে দমকল বাহিনী তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করে দেয়। বহু এলাকা থেকে সেই পিচ্ছিল পদার্থ সরানোর কাজ শুরু করেছেন দমকলের কর্মীরা।