করোনা: সারাবিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের দামে রেকর্ড

market

এবার খাদ্য দ্রব্যের সংকট তৈরি করল মহামারী করোনা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের ৪৫টি দেশে খাদ্যের প্রবল সংকট তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে ৩৪টি আফ্রিকায়। বাইরের দেশ সাহায্য না করলে সেখানে মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যেতে পারেন। অন্যদিকে, করোনার কারণেই গত ছয় বছরের মধ্যে রেকর্ড দাম ছুঁয়েছে গোটা বিশ্বের খাদ্যদ্রব্য। পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকলে দাম আরও বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জাতিসংঘের খাদ্য সংক্রান্ত সংস্থার নাম ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন। সম্প্রতি তারা বিশ্বের খাদ্য সংকট নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের পর গত নভেম্বরে গোটা বিশ্বের খাদ্য দ্রব্যের দাম রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। একাধিক খাদ্য দ্রব্যকে নিয়ে এক একটি বাসকেট বা ঝুড়ি তৈরি করে এই সংস্থাটি। তারপর গোটা বিশ্বে তাদের দামের অনুপাত তৈরি করে একটি পয়েন্ট বার করা হয়। সেই পয়েন্টের সাপেক্ষেই বোঝার চেষ্টা করা হয় ওই খাদ্যদ্রব্যগুলির দাম ঠিক কতটা বেড়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০১২ সালের পর খাদ্য দ্রব্যের দাম বাড়ার গতি কখনো এতটা হয়নি। অন্য দিকে ২০১৪ সালের পর খাদ্য দ্রব্যের দামের এমন রেকর্ড বৃদ্ধিও ঘটেনি।

সব চেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভোজ্য তেলের। বিশ্বের বাজারে পাম তেলের দাম বৃদ্ধির কারণেই সার্বিক ভাবে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ। চাল, গম, ভুট্টা, জোয়ার সহ একাধিক সিরিয়ালের দাম বেড়েছে। চিনির দাম বেড়েছে তিন দশমিক তিন শতাংশ। গত বছর দুগ্ধজাত খাবার এবং মাংসের দাম ১৩ দশমিক সাত শতাংশ কমেছিল। এ বছর তা প্রায় এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৪৫টি দেশে প্রবল খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ৩৪টি আফ্রিকার দেশ। সাহায্য না পেলে সেখানে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরো একটি কথার উল্লেখ রয়েছে, করোনা অতিমারী না কমলে বিশ্ব জুড়ে খাদ্য সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে।