জীবিত যুবককে মৃত ঘোষণা, হাসপাতালে ভাংচুর

জামালপুরের সরিষাবাড়ী হাসপাতালে জীবিত যুবককে মৃত ঘোষণা দেয়ার সন্দেহে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী জরুরী বিভাগে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। এ সময় পুলিশের সাথে বিক্ষুদ্ধ জনতার সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর আত্মীয়, পথচারী, শিক্ষার্থীসহ ৯ জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। রবিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২ রাউন্ড রাবার বুলেট গুলি বর্ষন করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও হাসপাতাল এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার ধানাটা এলাকার আব্দুর রশিদ এর ছেলে রাসেল মাহমুদ রবিবার বিকেলে বাড়িতে বিদ্যুৎ পিষ্ট হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এ সময় হাসাপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সাহেদুর রহমান সোহান তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

পরিবারের সদস্যরা রাসেলের লাশ বাড়ীতে নিয়ে দাফন কাফনের আয়োজন করে। সন্ধা সাড়ে সাতটার হঠাৎ বিদ্যুৎ পৃষ্টে নিহত রাসেল মাহমুদের দেহ নড়াচড়া করছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংঘটিত হয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে কর্তব্যরত সেই চিকিৎসককে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে জরুরী বিভাগের আসবাবপত্র, দরজা ও জানালা ভাংচুর করে। এ সময় ডাক্তার, কর্মচারী এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের সাথে আসা আত্মীয়-স্বজনরা আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে যান। উত্তেজিতদের ফিরাতে গিয়ে আর ইউটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আসলাম হোসেন আহত হন।

সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতার সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সেলিম, আসমা খাতুন, মোজাহারুল, মোমেনসহ ৯ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২ রাউন্ড রাবার বুলেটের ফাকা গুলি ছুড়ে পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িতের সন্দেহে হাসিবুল হাসান, প্লাবন. মেহরাব হোসেন সাদ নামের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় আতঙ্কে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাসেল মাহমুদ আরামনগর আর ইউ টি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র ছিল বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মমতাজ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাঃ সাহেদুর রহমান সোহান বিদ্যুৎ পিষ্টে নিহত রাসেল মাহমুদ মৃত ঘোষণা দেন। মৃত রাসেল মাহমুদ জীবিত দাবী করে কতিপয় ব্যাক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে ডাঃ সাহেদুর রহমানকে মারার জন্য খোঁজাখুজি করে না পেয়ে তারা জরুরী বিভাগে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও দরজা ভাংচুর করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম খান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২ রাউন্ড রাবার বুলেটের ফাঁকা গুলি ছুড়েছে এবং এ সময় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩১ ঘণ্টা, ১৬ অক্টোবর, ২০১৭
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/নীল

Scroll to Top