গবেষণা ও প্রশিক্ষণ খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পেয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম. এ রহিম।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতীয় উন্নয়নে গবেষণা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে কৃষি গবেষণা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে, যা দেশের কৃষিখাতকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছে।
ডিআইইউতে শিক্ষকতাকালীন কৃষি গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন ড. এম. এ. রহিম। বিশ্ববিদ্যালয়টির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের জার্মপ্লাজম সেন্টারে পরিচালিত গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত চারটি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত কাঁঠালের জাত ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-১, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-২, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৩ এবং ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৪ সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে। এই অর্জন টেকসই কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের কৃষি খাতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে ডিআইইউ-এর গবেষণানির্ভর উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
তিনি বাংলাদেশের ফল উন্নয়ন কার্যক্রমে এক অনন্য নাম। ফল চাষের প্রসার এবং উচ্চ ফলনশীল ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনে তার যুগান্তকারী অবদান দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তার গবেষণার মাধ্যমে ১২৮টি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় বিএইউ কুল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কৃষি গবেষণায় দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড মেডেল (২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩), বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক (২০১৪), বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল (২০১২), বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার গোল্ড মেডেল (২০১৬)সহ বহু সম্মাননা অর্জন করেন এবং সর্বশেষ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া ২০২৪ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো কৃষি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন, যা তার দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অবদানের স্বীকৃতি বহন করে। পূর্বে তিনি চ্যানেল আই ও আরটিভি আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ।
ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ ফল গবেষণা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উদ্যানতত্ত্ব চর্চায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
একাডেমিক গবেষণায় তিনি ৪০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং ২০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি ১০১ জন পিএইচডি ও ৩৫০ জন এমএস শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। এছাড়া কৃষিবিষয়ক ১০টি বই, ২৪টি লিফলেট, ১১টি বুকলেট ও ২৯টি ফোল্ডার প্রকাশের মাধ্যমে তিনি জ্ঞান বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
উল্লেখ্য যে, ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।







