কপ-৩১ এর আগে জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি নাগরিক সমাজের

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। আগামী কপ ৩১-এ শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তব পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের (সিজেএ-বি) যৌথ উদ্যোগে ‘৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ: আর্টিকুলেটিং সিএসওস পজিশনস টুগেদার’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে নীতিনির্ধারক, জলবায়ু আলোচক, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে কপ৩১-এ বাংলাদেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নাগরিক সমাজের অবস্থানপত্র উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে উঠে আসা প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয়ভাবে নির্ধারিত জলবায়ু অঙ্গীকারের (এনডিসি) তৃতীয় চক্রকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও সিজেএ-বি’র সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, কপ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখসারিতে থাকা জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।

সিজেএ-বি’র পক্ষে নাগরিক সমাজের অবস্থান ও দাবিগুলো উপস্থাপন করেন সিপিআরডির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি ব্যবস্থাপক শেখ নূর আতায়া রাব্বি। অবস্থানপত্রে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এসময় ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের নুজহাত জাবিন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের শাহনওয়াজ ওয়ারা, এডুকোর তাজিন হোসেন, হেলভেটাসের ফারহানা আফরোজ, সেভ দ্যা চিলড্রেন বাংলাদেশের এএসএম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া, এসডিএসের রাবেয়া বেগম, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মোহসিন আলী, পার্থ হেফাজ শেখ এবং ওয়াইপিএসএর পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

তারা কপ৩১-এ অধিকারভিত্তিক ও ন্যায়বিচারকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী জনগোষ্ঠী ও দেশগুলোই এর বিরূপ প্রভাব বেশি ভোগ করছে। তাই আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় তাদের স্বার্থ ও অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা ও বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণে নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জলবায়ু অর্থায়ন এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের বিষয়ে নাগরিক সমাজকে আরও জোরালোভাবে দাবি তুলে ধরতে হবে।

রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক প্যাকেজ নয়, বরং বাস্তব কর্মপরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”

সেমিনারে নাগরিক সমাজের অবস্থানপত্রের ওপর বিশেষজ্ঞ মতামত দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. শাহ আবদুল সাদী এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম. আসাদুজ্জামান।

কপ৩১-এর আলোচনায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর দাবি গুরুত্ব পাবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন আলোচকরা।

Scroll to Top