তদবির না শুনতে ফোন বন্ধ রেখে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছি: তানভীর হোসেন

Chakaria

নদীর বালু উত্তোলনের মাধ্যমে প্রকৃতি চরম বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদী এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর বিভিন্ন ছড়ার পাদদেশে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং বন বিভাগ।

উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত ১০ দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে ভেঙে ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত অর্ধশত ড্রেজার। জব্দ করা হয়েছে বালু উত্তোলনের নানা সরঞ্জামাদি। এ সময় বালু উত্তোলনে জড়িত ১২ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু এবং দোষ স্বীকারের পর বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে কয়েক লাখ টাকার জরিমানাও।

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয় কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খুটাখালী মধুশিয়া, ফুলছড়ি ও মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান এলাকায়। অভিযানে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ২০টি শক্তিশালী ড্রেজার। যেসব ড্রেজার দিয়ে ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল প্রভাবশালীরা।

এ সময় ১০০ ফুটের বেশি পাইপসহ জব্দ করা হয় বালু উত্তোলনের নানা সরঞ্জামা। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন। সাথে ছিলেন বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের এসিএফ মো. সোহেল রানা, রেঞ্জ কর্মকর্তা যথাক্রমে মো. মাজহারুল ইসলাম, সৈয়দ আবু জাকারিয়া ও সুলতান মাহমুদ টিটুসহ বন বিভাগ ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন বলেন, যারা পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে, তাদের সবাই প্রভাবশালী। তাই অভিযানের সময় যাতে কোনো প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি তদবির করতে না পারে সে জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান, গত ১০ দিনে একনাগাড়ে অভিযান চালানো হয় মাতামুহুরী নদী এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর বিভিন্ন ছড়াখালে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনস্থলে। এ সময় অন্তত অর্ধশতাধিক ড্রেজার ভেঙে ও পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয় কয়েক লাখ টাকাও।

ইউএনও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা মোতাবেক চকরিয়ার কোথাও পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে।