হাওরের ধান কাটতে কৃষকদের নতুন করে ঋণ দেবে কৃষি ব্যাংক

Bangladesh Krishi Bank

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক হাওর অঞ্চলের ধান কাটার জন্য কৃষকদের নতুন করে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। হাওর অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষক একরপ্রতি ১২ হাজার টাকা ঋণ পাবেন। জেলা পাঁচটি হলো কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার।

আজ মঙ্গলবার ব্যাংকটি এ উদ্যোগ নিয়ে হাওর অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপকদের চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। এর ফলে ধানকাটায় কৃষকদের অর্থসংকট লাঘব হবে। যাঁরা আগে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন, শুধু তাঁরাই এ সুবিধা পাবেন। এ ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ। আগের ঋণের সঙ্গে তা পরিশোধ করতে হবে।

কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঁচ জেলায় পাঠানো চিঠিতে বলে হয়েছে, বাংলাদেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এলাকা অর্থাৎ হাওর অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদনের জন্য কৃষি ব্যাংক কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করে থাকে। বর্তমানে ওই সব এলাকায় বোরো ধান কাটার উপযুক্ত সময়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে শ্রমিকদের অপ্রতুলতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অধিকাংশ কৃষক বাড়তি খরচের কারণে তাঁদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। স্বল্পতম সময়ে পাকা ধান কাটা ও মাড়াইয়ে বিলম্ব হলে বন্যা ও কালবৈশাখীতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এলাকার কৃষকদের দুর্দশা লাঘবের জন্য বোরো (উফশী) খাতে একরপ্রতি ঋণ বিতরণের সীমা ৫৯ হাজার ৫২৫ থেকে আরও ১২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বোরো (স্থানীয়) খাতে ঋণ বিতরণের সীমা ৪৩ হাজার ৯৮৯ থেকে আরও ১২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। ঋণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই ও নিশ্চিত হয়ে মাঠকর্মের সুপারিশে ও শাখা ব্যবস্থাপকের অনুমোদন সাপেক্ষে এ ঋণ দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুধু সরকার ঘোষিত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকার সময় পর্যন্ত চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া এ নিয়ে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে একদিকে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কৃষকদের হাতে টাকাও নেই। এ কারণে আমরা নতুন করে ধান কাটায় ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর ফলে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো ঘরে তুলতে পারবেন।

আলী হোসেন প্রধানিয়া জানান, একরপ্রতি ধান ঘরে তুলতে ১২ হাজার টাকার বেশি লাগে না। সেটা যন্ত্র ও শ্রমিক দুই ক্ষেত্রেই।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৫ জন নতুন কৃষককে ২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকার ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে কৃষি ব্যাংক কৃষি খাতে ৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

সারা দেশে কৃষি ব্যাংকের ১ হাজার ৫০টি শাখা রয়েছে। করোনাভাইরাসের মধ্যে খোলা রয়েছে সব শাখা।