পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত সেই ত্বীন ফল চাষ হচ্ছে দিনাজপুরে

ফেসবুক সংগৃহীত ছবি

ত্বীন ফলের নাম অনেকেই শুনেছেন পবিত্র কোরআন শরীফে। তাছাড়া কেউ কেউ দেখেছেনও। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে তেমন পরিচিত নয় এ ফল। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ত্বীন ফলের চাষ হচ্ছে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাতে। শখের বসে গাজীপুর থেকে গাছ এনে চাষ শুরু করেন এক কৃষক। আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ডুমুর আকৃতির এই ফল সবার দৃষ্টি কেড়েছে। বর্তমানে সেই কৃষকের বাগানে রয়েছে দুই প্রজাতির এক হাজারটি গাছ। বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে এলাকার বেশ কিছু পরিবার।

ফলটির সম্পর্কে বলতে গেলে, প্রতিটি গাছ থেকে প্রথম বছরে এক কেজি, দ্বিতীয় বছরে ৭ থেকে ১১ কেজি, তৃতীয় বছরে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফল ধরে। এভাবে ক্রমবর্ধিত হারে একটানা ৩৪ বছর পর্যন্ত ফল দিবে। ত্বীন ফল ওজনে ৭০ থেকে ১১০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। গাছটির আয়ু হলো প্রায় ১০০ বছর।

ত্বীনের প্রতিটি গাছ ছয় থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। তিন মাসের মধ্যেই শতভাগ ফলন আসে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ এখন মানিয়ে নিয়েছে ত্বীন। ত্বীন চাষে বেকারত্ব দূরের পাশাপাশি রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন এই নতুন উদ্যোক্তা। ত্বীনের বাগান ও চাষ পদ্ধতি জানতে সাধারণ মানুষ বাগানটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। পরিদর্শনে আসা বিভিন্ন চাষি ও সাধারণ মানুষ ত্বীন ফলের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ত্বীন চাষি ওই যুবক জানান, ত্বীন চরম জলবায়ু অর্থাৎ শুষ্ক ও শীত প্রধান দেশে চাষ হলেও আমরা প্রমাণ করেছি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও ৩৬৫ দিন এ ফল উৎপাদন সম্ভব। এ ফল আমাদের দেশে সারা বছর পুষ্টি ও ফলের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বিকল্প আরেকটা সম্ভাবনা দেখছি ত্বীন চাষে। সরকারের সহযোগিতা পেলে তা রপ্তানি করে আন্তর্জাতিকভাবে বাজার ধরা সম্ভব। ত্বীন একটি সম্ভাবনাময় ফসল। যা চাষ করে দেশের বেকারত্ব দূর এবং রপ্তানি করে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, আয়তনের দিক থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে এটিই প্রথম ত্বীন ফলের বাগান। আমরা বাগানটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। রোগ বালাই নেই বললেই চলে। দেশের প্রচার মাধ্যমে ত্বীন ফলের চাষ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও বিদেশ থেকে ত্বীনের আমদানি নির্ভরতা কমে আসার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।