উন্নত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তৈরি করছে বাংলাদেশ

Earl R. Miller

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাকের বাইরেও উন্নত স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ তৈরি করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। বিপুল শ্রম শক্তি সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে উন্নত ও মানসম্পন্ন রপ্তানিযোগ্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তৈরিতে বাংলাদেশ সক্ষমতা তুলে ধরছে।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সাভারে বেক্সিমকোর নতুন পিপিই পার্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, আমরা উভয় জাতিই দেশের উন্নয়নে বাণিজ্য ও স্বাধীন উদ্যোগের মূল্য সম্পর্কে সাধারণ কিছু দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করি। বেক্সিমকো এ মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদা পূরণে যথোপযুক্ত হওয়ায় আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য চারগুণ বেড়েছে। বেক্সিমকোর এ প্লান্টটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী এবং ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার।

তিনি আরও বলেন, গত বছরে মহামারির শুরুর দিকে জরুরি ভিত্তিতে পিপিই উৎপাদন করে বেক্সিমকো। প্রযুক্তি স্থাপন ও কৌশল আয়ত্তে এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দশমিক পাঁচ মিলিয়ন গাউন সরবরাহ করে। সাম্প্রতিক সময়ের সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতিবছর আমেরিকায় ছয় দশমিক সাত বিলিয়ন পণ্য রপ্তানি করে যা বিগত দশকের তুলনায় দ্বিগুণ।

আশুলিয়ার করিপুরে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত বেক্সিমকোর নতুন পিপিই পার্ক উদ্বোধনও করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বেক্সিমকো গ্রুপ তাদের নতুন বেক্সিমকো স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীদের কাছে মাস্ক এবং প্রতিরক্ষামূলক গাউনসহ পিপিই সরবরাহের চুক্তি করেছে।

এ সময় বেক্সিমকোর সিইও এস নাভেদ হুসাইন বলেন, প্রায় ২৫ একরের বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে পিপিই পার্কটি। বাড়তি চাপ সামলাতে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও স্থাপত্যের সংমিশ্রণে মাত্র ছয় মাসে সব অনুমতিসহ উৎপাদনক্ষম করে গড়ে তোলা হয় কারখানাটি। এখানে কাঁচামাল থেকে বিভিন্ন ওজনের লেমিনেটেড ফেব্রিক্সস ও মেল্টব্লোন পদার্থ তৈরি হবে। তারপর তা থেকে প্রস্তুত করা হবে জীবাণুমুক্ত ডিজপজেবল আইসোলেশন ও সার্জিক্যাল গাউন, পুনঃব্যবহারযোগ্য আইসোলেশন গাউন, এন৯৫ ক্যাপ টাইপ ও ফোল্ডেবল টাইপ মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্ক, ডিজপজেবল স্ক্রাবস, উভেন ও কিটেন সু কভার ও হেড কভার, পুনঃব্যবহারযোগ্য পানিরোধী স্ক্রাবসসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম ও ইন্টারটেকের সিইও আন্দ্রে লাক্রোইক্স প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এছাড়াও ইন্টারটেকের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সন্দ্বীপ দাস, উত্তর আমেরিকার গ্লোবাল সফটলাইন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রক করোনা, উত্তর আমেরিকার পিপিই কারিগরি প্রধান জ্যাশন অ্যালেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুরো কারখানাটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এখানে জীবাণুমুক্ত গাউন তৈরির জন্য একটি আলাদা ইটিও স্টেরালাইজেশন সুবিধা সম্পন্ন কক্ষ রয়েছে। বেক্সিমকো ও ইন্টারটেকের যৌথ উদ্যোগে পার্কের অভ্যন্তরে ১২ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি সর্বাধুনিক ‘পিপিই সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি রয়েছে। পিপিই ল্যাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মানদণ্ড অনুসারে পিপিই তৈরির জন্য সব ধরনের পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে।