airbus

বোয়িং গছিয়ে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের, ঢাকা কিনবে এয়ারবাস

এয়ারবাসের তুলনায় বোয়িংয়ের উড়োজাহাজে দুর্ঘটনার রেকর্ড বেশি হওয়ায় বিশ্বজুড়েই বিরাজ করছে বোয়িং আতঙ্ক। তাই আগেভাগেই বোয়িংয়ের পরিবর্তে ফ্রান্সের এয়ারবাস কেনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ, আর নিজেদের জাহাজ বিক্রির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বহর সম্প্রসারণে নতুন ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ অবস্থায় আগেভাগেই বোয়িংয়ের পরিবর্তে ফ্রান্সের এয়ারবাস কেনা নিয়ে মাঠে বাংলাদেশ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো গত সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে সেরে ফেলেন দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও।

এরপর অর্ডার পেতে নির্বাচনের আগে থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি। আর্থিক প্রস্তাব দেয়ার পাশাপাশি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নানাভাবে বৈঠক করছে বোয়িং প্রতিনিধিদল। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান উয়্যার।

সম্প্রতি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজের উৎপাদনগত যান্ত্রিক ত্রুটি বাড়ায় দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে। এটি শঙ্কায় ফেলেছে বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইন্সগুলোকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক আগে থেকেই বোয়িংয়ের ছোট ছোট ক্রটির কারণে আশংকা তৈরি হয়েছে এ কোম্পানিকে ঘিরে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, বোয়িং দুর্ঘটনার পরিমাণ অনেক বেশি। ওদের এক মডেলের উড়োজাহাজেরই দুর্ঘটনার সংখ্যা এতো বেশি, যা পুরো এয়ারবাসে নেই।

তথ্য অনুযায়ী, বোয়িংয়ের তুলনায় কম দুর্ঘটনা, জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়সাশ্রয়ী, আর যাত্রীধারণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় চাহিদা বাড়ছে এয়ারবাসের।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজ নির্মাণ দীর্ঘ হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। সেক্ষেত্রে ব্যবসা ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়ার পরামর্শ তাদের। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল হক বলেন, গত বছর দেশের প্যাসেঞ্জার ট্রাফিক গ্রোথ হয়েছে ৩২ শতাংশ। এ গ্রোথ ধরে রাখতে ফ্লাইট ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।

বাংলাদেশ বিমানের বহরে থাকা ২১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৬টিই বোয়িং। তবে সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, বহরে নতুন কোম্পানির উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ২০ বছরে পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে ১৫ কোটি ডলার।

Scroll to Top