এক প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন ৫২ শিক্ষার্থী

সংগৃহীত ছবি

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। এবারও প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫২ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এবার মেডিকেলে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে এই কলেজ থেকেই আছেন ৪ জন শিক্ষার্থী। সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থী ৩৪ ও ছেলে শিক্ষার্থী ১৮ জন রয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আজাদ আবুল কালাম। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা যায় চমক সৃষ্টিকারী ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য।

চলতি বছর সৈয়দপুরে চমক সৃষ্টিকারী ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগে ২২৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ২২৩ জন এবং জিপিএ-৫ পান ১৫৭ জন শিক্ষার্থী। এদেরই মধ্যে এবার ৫১ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

এর আগেও ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৩ সালে ৩৫ জন, ২০২২ সালে ৩৯ জন, ২০২১ সালে ৪০ জন, ২০১৯ সালে ৩৬ জন ও ২০১৮ সালে ৩৮ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। একই সাথে বুয়েটে ও ইঞ্জিনিয়ারিং গুচ্ছ শাখাতেও সমানসংখ্যক শিক্ষার্থী সুযোগ পায়।

নওগাঁ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী রিদিতা প্রামাণিক পিউলী বলেন, আমার বাবা নেই। বাবার খুব স্বপ্ন ছিল আমি মেডিক্যালে পড়বো। আজ স্বর্গীয় বাবার যেনো স্বপ্ন পুরণ হল কিন্তু আফসোস আমার এই সাফল্য বাবা দেখে যেতে পারলেন না। আমাদের শিক্ষকদের আন্তরিকতার সহিত পাঠদান আর অভিভাবদের সঠিক গাইডলাইন আমার সাফল্যের মূল কারণ বলে জানান পিউলী।

অপর শিক্ষার্থী কামিয়া, আঞ্জুমান আরা আশা, রাইসা, তিথি, নাঈমসহ অন্যান্যরা বলেন, আমরা আশাবাদী ছিলাম। ফল পেয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমাদের স্যারদের চেষ্টা আর ধারাবাহিক পাঠাদানের আমাদের এই সাফল্য। আমরা ভবিষ্যতে চিকিৎসাক্ষেত্রে দেশের সেবা করতে চাই। তাদের এই সাফল্যে শিক্ষকদের পাঠদানের সর্বোচ্চ সহযোগিতা আন্তরিকতা কথা বলেন শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবক বিপ্লব কুমার জানান, আমার ভাগ্নি এবার মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। এই আনন্দ ভাষায় বোঝাতে পারবো না। বাসায় সবাই খুশি। তাঁকে নিয়ে আমাদের স্বপ্নের সীমা যেনো বেড়েই গেলো। আশা করি আমার ভাগ্নি বড় হয়ে দেশ সেবায় অবদান রাখবে।

১৯৬৪ সালে দেশের চারটি শিল্পাঞ্চলে টেকনিক্যাল স্কুল গড়ে ওঠে। এর একটি হচ্ছে সৈয়দপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল। পরে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে উন্নীত করে নাম দেওয়া হয় সৈয়দপুর সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ। ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর নাম পরিবর্তন করে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ নামকরণ করে। কলেজটিতে শুধু বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে।

কলেজটিতে শিক্ষাদানের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্য সকল শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টার ফসল। এখানকার সুশৃঙ্খল পরিবেশ, পাঠদানে শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং কঠোর তদারকির ফলে প্রতিবছর আশানুরূপ ফলাফল করছেন শিক্ষার্থীরা। মূলত, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছর মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সফলতা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষক আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে আসছেন বলে আমাদের এই ধারাবাহিক সাফল্য। শুধু মেডিক্যালে নয় বুয়েটে, কুয়েটসহ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সৈয়দপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি।

মেডিকেল ভর্তির সুযোগপ্রাপ্তরা হলেন:


মিম-ঢাকা মেডিকেল কলেজ, অবন্তী-শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, স্বচ্ছ-শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, এলিন-স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, নাঈম-স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, রোজা-রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, তিথি-রাজশাহী মেডিকেল কলেজ. মাহবুবা-রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাইশা-রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, উর্মি-রংপুর মেডিকেল কলেজ, বর্ষা-রংপুর মেডিকেল কলেজ, মামুন-রংপুর মেডিকেল কলেজ, মুরাদ-রংপুর মেডিকেল কলেজ, রিফা-রংপুর মেডিকেল কলেজ, সিন্থি-রংপুর মেডিকেল কলেজ, সাবিরা সুলতানা নুর-রংপুর মেডিকেল কলেজ, মিতু-ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, তিশা-ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, সুমাইয়া-শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, অর্থী-শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, শৈয়লী-ওসমানী মেডিকেল কলেজ, আবির-ওসমানী মেডিকেল কলেজ, আশা-দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, রেমি-দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, পীযুষ-দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, সান্তু-দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, নেহা-ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, অবন্তী(২)-সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, কাব্য-পাবনা মেডিকেল কলেজ, আফিয়া আদিবা-নীলফামারী মেডিকেল কলেজ, অনামিকা-কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, মেরাজ-কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, নুসরাত জাহান অপি-রংপুর মেডিকেল কলেজ, মৌ-ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মন্নুজা-শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, সাথি রানি-শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, তনু- সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ, মোশাব্বির-কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, রিফাত-শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, মারুফা -সাতক্ষিরা মেডিকেল কলেজ, মাহফুজা আকতার মিতু-রংপুর মেডিকেল কলেজ, সিজু-ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, সৃষ্টি-আব্দুল মালেক মেডিকেল কলেজ নোয়াখালী, রিদিতা প্রমানিক পিউলি-নওগাঁ মেডিকেল কলেজ, ইশরাত জাহান-বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল, ইশতিয়াক আহমেদ-দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, মো. আরিফ মোহায়মিন-পাবনা মেডিকেল কলেজ, নসিবুল হাসান নাঈম-শহীদ এম মুনছুর আলী মেডিকেল কলেজ সিরাজগঞ্জ, মিথিলা ফারজানা -রংপুর মেডিকেল কলেজ, রিফাত জাহান রিফা-চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ, সেতু দেবনাথ -চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ।