স্বামীর আয় জানার অধিকার নেই স্ত্রীর: ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন

Husband's income

বর্তমানে সংসারের আয় ব্যয়ের হিসাব সাধারনত গৃহকর্তীরাই রাখেন। তবে শিরোনাম দেখে হয়তো অবাক হবেন অনেকেই। কিন্তু ঘটনা সত্য। স্বামীর আয় জানার অধিকার নেই স্ত্রীর, বিশেষ একটি প্রেক্ষিতে বেশ যুক্তি দিয়ে এ মন্তব্য করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’ জানায়, স্বামীর আয় যাচাই করতে আয়কর সংক্রান্ত নথি চেয়ে ‘তথ্য জানার অধিকার আইনে’ আবেদন জানিয়েছিলেন এক নারী। সেই সূত্রেই সম্প্রতি এমন তত্ত্ব সামনে এসেছে।

কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন জানায়, “রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই একজন ব্যক্তি আয়কর দিয়ে থাকেন। কোনো বৃহত্তর জনস্বার্থের প্রশ্ন জড়িত না থাকলে তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে সেই তথ্য প্রকাশ করা যায় না।” অতএব স্বামী যদি তা না জানান তাহলে কোনোভাবেই স্ত্রী তা জানতে পারেন না।

কিন্তু হঠাৎ কেন স্বামীর আয়কর সংক্রান্ত নথির প্রয়োজন পড়ল ওই নারীর? স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের মামলা রুজু করেছেন তিনি। সেখানে খোরপোশের প্রশ্ন উঠতেই স্বামীর প্রকৃত আয় কত তার তথ্য তালাশ শুরু করেন।

সেই সূত্রেই ‘তথ্য জানার অধিকার আইনে’ আয়কর বিভাগের কাছে স্বামীর আয়কর সংক্রান্ত নথি চেয়ে আবেদন জানান। কিন্তু আয়কর বিভাগ সেই নথি তাকে দিতে অস্বীকার করে জানিয়ে দেয়, তথ্য জানার অধিকার আইনের (৮/১/জে) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির আয়কর সংক্রান্ত তথ্য ‘এক্সেমপ্টেড ইনফরমেশন’ এর পর্যায়ে পড়ে। দ্বিতীয় কোন ব্যক্তিকে সেই তথ্য দেওয়া যায় না।

এরপর সরাসরি কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের দ্বারস্থ হন ওই নারী। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনার নীরজ কুমার গুপ্ত বলেন, “তথ্য জানার অধিকার আইনে কোনো ব্যক্তির আয়কর সংক্রান্ত নথির তথ্য তখনই অন্য কেউ পেতে পারেন যখন হাতে বৃহত্তর জনস্বার্থের প্রশ্ন জড়িত থাকে। কারণ কর দেওয়া রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা। ফলে সেই সংক্রান্ত তথ্য রাষ্ট্র ও সেই ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে যেহেতু কোনও বৃহত্তর জনস্বার্থ জড়িত নেই তাই স্ত্রী হলেও তিনি স্বামীর আয়কর সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার অধিকারী হতে পারে না।”

এরপরই আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, স্বামী বা স্ত্রী কিংবা কোনও নিকটাত্মীয় হলেও জনস্বার্থের প্রশ্ন জড়িত না থাকলে একজন ব্যক্তির আয় সংক্রান্ত তথ্য সেই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও জানার অধিকার নেই।