সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি ও একটি ডিজিটাল ওয়ালেট নিশ্চিত করতে চায় সরকার। সরলতা, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও আন্তঃসংযোগ— এই পাঁচ নীতির ভিত্তিতে পুরো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

রবিবার বিকেলে রাজধানীর পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশ‌নের দ্বিতীয় দিনে সংলাপে তিনি এসব কথা জানান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন করেছে।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আমাদের সরকারের স্বপ্ন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি ও একটি ডিজিটাল ওয়ালেট। আমরা প্রতিটি নাগরিককে বিশ্বস্ত সেবা দিতে চাই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে। এটাই আমাদের মূল নৈতিক মানদণ্ড।

তিনি বলেন, স্থাপত্য, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসহ পুরো ইকোসিস্টেমের কেন্দ্রে এই পাঁচ নীতি থাকবে। আমরা শুধু আরেকটি সিস্টেম বানাতে চাই না… আমরা এমন ব্যবস্থা গড়তে চাই, যা মানুষের জীবন সহজ করবে এবং সরকারি সেবা পাওয়া আরও দ্রুত ও নিরাপদ করবে। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে আরও মানবিক ও প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত করতে চাই।

এ লক্ষ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে নিকোলা নিক্সনের তুলে ধরা বিষয়গুলোও বিবেচনায় থাকবে। তবে সব কাজ হবে ওই পাঁচ নীতির ভিত্তিতে। নাগরিক সেবা হবে আরও সহজ ও স্মার্ট, আর পুরো ব্যবস্থা হবে আরও গোপনীয় ও নিরাপদ।

আন্তঃসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এতে সেবা পেতে একজন নাগরিককে আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয়ে ঘুরতে হবে না।

উদাহরণ হিসেবে তিনি শিক্ষা সনদের কথা উল্লেখ করেন।

পুরো ইকোসিস্টেমে আস্থা তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখন প্রস্তুত বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি জানান, দেশজুড়ে চালুর আগে প্রযুক্তির ওপর আস্থা তৈরিতে প্রথমে ‘মিনিমাম ভায়াবল প্রোডাক্ট’ (এমভিপি) বা সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালানো হবে। এতে ভুল আগেই শনাক্ত করে বড় পরিসরে তার পুনরাবৃত্তি এড়ানো যাবে।

জাতীয় ডিজিটাল কৌশলের কেন্দ্রে ডিজিটাল আইডি থাকবে বলে জানান রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, ডেটা এক্সচেঞ্জ ও ক্লাউড অবকাঠামোর পাশাপাশি এটি হবে অন্যতম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, যার ওপর ভর করে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বহুমুখী সেবা গড়ে উঠবে।

Scroll to Top