রাঙামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার বন্যা এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।
সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে সড়ক, কালভার্ট, কৃষিজমি, মাছের ঘের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শত শত বসতঘর ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে টেকসই উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ এবং জরুরি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধ। জনগণকে উন্নয়নের জন্য কিছু চাইতে হবে না। সরকারের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
দিনব্যাপী সফরে প্রতিমন্ত্রী বাঘাইছড়ি ও লংগদুর বিভিন্ন বন্যাকবলিত এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা ঘুরে দেখেন।
এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলার বারোবিন্দু ঘাট এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ভেঙে যাওয়া প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি এলাকায় নতুন কালভার্ট নির্মাণ এবং দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
এ সময় তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলে বাঘাইছড়ির নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে প্রতিবছর জনগণকে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, পার্বত্য এলাকার প্রতিটি উপজেলায় সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে আধুনিক ভূমি অফিস এবং ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যাতে দুর্গম এলাকার মানুষ সহজেই সরকারি সেবা পেতে পারেন।
তিনি আরও জানান, বাঘাইছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা আরও সহজ হবে। পাশাপশি বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণগুলোর কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ, খাল-বিল ভরাট, পরিকল্পনাহীনভাবে বারবার কালভার্ট নির্মাণ এবং পানি চলাচলের পথ ময়লা-আবর্জনা ফেলে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষায় জনগণের সচেতনতা এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
টেকসই উন্নয়নের প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।
সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। সরকার সাময়িক সমাধান নয়, যেকোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতেই কাজ করছে।
দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার ৮৩৪ জন মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইমরানুল হক ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পুনর্বাসন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।







