যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে তুলকালাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে চান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

aducation in USA

আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নিরাপদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার অভিপ্রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আহ্বানে এক ‘জাতীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে এই সংলাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্টেট গভর্ণরের প্রতি ট্রাম্প উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললে কোমলমতি ছেলে-মেয়েরা প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরতে সক্ষম হবে না। এক ধরনের হতাশা গ্রাস করবে তাদেরকে।

এমন আহ্বানের মধ্যেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় একইদিন সন্ধ্যায় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস আর ওয়েলকাম ইন দ্য ইউএস’ (আন্তর্জাতিক ছাত্ররা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত) শিরোনামে একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা আগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ‘ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইস) দেয়া ঘোষণার এক ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট’দের অস্বস্তি দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদের পছন্দের প্রথমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আসছে সেপ্টেম্বরে যারা যুক্তরাষ্ট্রে আসার পরিকল্পনা নিয়েছেন, তারা সে সুযোগ এখনও হারাননি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এফ-১ এবং এম-১ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (স্টুডেন্টদের জন্যে)’র শর্ত সাময়িকভাবে মডিফিকেশন করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। এরফলে যারা সশরীরে এখানে আসতে চান তাদেরকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ কিছু শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

তবে যারা করোনার গতিবিধির কারণে আসতে সক্ষম হবেন না বা ভিসা পাবেন না, তারা নিজ দেশ থেকেই অনলাইনে ক্লাস/কোর্স নিতে পারবেন। আর এভাবেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষালাভে সক্ষম হবেন। যারা সশরীরে আসতে সক্ষম হবেন তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাসে অবস্থান এবং ক্লাসে যোগদান করতে হবে। এ ব্যাপারে যথাযথ নির্দেশনা জানতে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদেরকে নিজ নিজ দেশে মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৭৮০০ বাংলাদেশীসহ সারাবিশ্বের ১১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। গত ৬ জুলাই সোমবার অপরাহ্নে আইস এক ঘোষণায় উল্লেখ করে যে, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে না গেলে গ্রেফতারের সম্মুখীন হবেন এবং তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া, সামনের শিক্ষাবর্ষে যারা ভর্তি হয়েছেন বা হতে চান তাদেরকে নিজ নিজ দেশ থেকেই অনলাইনে কোর্স নিতে হবে। এ ধরনের নির্দেশ জারির পর শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকান ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ’র বিদায়ী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. গোলাম মাতবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, সারাবিশ্বের মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং তার অধিকাংশেরই মেধার বিনিয়োগ ঘটে এই যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন আর কল্যাণে। অর্থাৎ প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষিত হচ্ছে যুগযুগ ধরে। এমনি অবস্থায় যদি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হয় তাহলে সে খেসারত দিতে হবে জাতিগতভাবে আমেরিকাকেই।

ড. মাতবর বলেন, এ ধরনের কিছু আচরণের জন্যে ইতিমধ্যেই অনেকে অষ্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় চলে গেছেন। করোনা পরিস্থিতি গোটাবিশ্বেই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করেছে। সেটি মগজে রেখেই সবকিছু সম্মানজনকভাবে করতে হবে। গ্রেফতার আর বহিষ্কারের হুমকির ব্যাপারটি কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না।

এদিকে, হোয়াইট হাউজে জাতীয় সংলাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রতি আঙ্গুল উচিয়ে বলেছেন, ক্লাস যদি চালু না হয় তাহলে প্রতি বছর যারা ৪১ বিলিয়ন ডলার করে ‘এনডাউমেন্ট’ ফান্ডে দিচ্ছেন, তারাও তো নিজেদেরকে গুটিয়ে নিতে পারেন। হোয়াইট হাউজ সেজন্যেই চাচ্ছে সেপ্টেম্বর থেকে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে।

আসছে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে অন্তত দুই সেমিস্টারের সকল ক্লাস অনলাইনে করানোর একটি পরিকল্পনা নিয়েছে হার্ভার্ডসহ শীর্ষস্থানীয় সকল ভার্সিটি। এধরনের পরিকল্পনাকে লজ্জাজনক হবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। স্মরণ করা যেতে পারে, ট্রাম্প নিজেও ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার ছাত্র ছিলেন। সেটিও হার্ভার্ডের মতোই আইভি লীগ ইউনিভার্সিটি। সে সব প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সুনাম সমুন্নত রাখতে করোনার মত অদৃশ্য শক্তিকে ধরাশায়ী করার জন্যেই সবকিছু সচল রাখা দরকার।

হোয়াইট হাউজের ইস্টরুমের এই সংলাপে ছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক এবং প্রশাসনের নীতি-নির্দ্ধারকরা। সকলেই নিজ নিজ অভিমত পোষণ করেছেন স্কুল-ভার্সিটি পুনরায় খোলার ব্যাপারে। স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞরা করোনা ভাইরাসের গতি-প্রকৃতির আলোকে স্কুল খোলার মত দেন।